এবার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে
- আপডেট সময় ০১:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 21
জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার কাফরুল এলাকায় তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন।
কলিমুল্লাহর আইনজীবী মহসিন রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর কোনো রাজনৈতিক পদ নেই। তিনি একজন অধ্যাপক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার দাবি, তিনি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই কারণেই তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। তিনি আদালতে বলেন, কলিমুল্লাহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্য দেন নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ। তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষকতা জীবন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন না এবং বর্তমানে নেই।
কলিমুল্লাহ দাবি করেন, তিনি উপাচার্যের দায়িত্বে থাকাকালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। এ কারণে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলেও আদালতকে জানান তিনি।
জুলাই আন্দোলনের সময় নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ছিলেন উল্লেখ করে কলিমুল্লাহ বলেন, সাঈদ হত্যার প্রতিবাদ করে তিনি কথা বলেছেন। তিনি নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর বাইরে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় তার নেই।
উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর আদালত কলিমুল্লাহকে তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত বছরের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওইদিন তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান কলিমুল্লাহ। পরে এক লাখ টাকা মুচলেকা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির। অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না থাকায় তার কারামুক্তির পথ তৈরি হয়েছিল।
তবে গত ৩০ জুলাই ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় জুলাই আন্দোলনসংক্রান্ত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এতে তার মুক্তি আটকে যায়। পরে ওই মামলাতেও তিনি জামিন পান।
এর মধ্যে গত ৭ সেপ্টেম্বর তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম। আদালত আসামির উপস্থিতিতে এ বিষয়ে শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই আন্দোলনের সময় কাফরুল এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তরিকুল ইসলাম রুবেল। ওইদিন রাত ৮টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলা চালানো হয়। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তরিকুল ইসলাম রুবেল। পরে এ ঘটনায় মামলা করা হয়।























