ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রিপাবলিকানরা জিতলে ট্রাম্পের ট্রিলিয়ন ডলারের ঘোষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট – দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ অর্থের নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তপ্ত বৈঠকের পর সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রস্তাব ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির

স্থানীয় সময় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা নির্বাচনে জয়ী হলে তারাও জয়ী হবেন এবং ৫ হাজার ডলার পাবেন। তিনি এই অর্থকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কমপক্ষে ১ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে আর্থিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।

এই বিপুল অর্থের উৎস কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। তিনি শুধু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রচুর অর্থ আয় করছে।

নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট-দুই কক্ষেই রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে বলে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলছি, ধরে নিন আমিও ব্যালটে আছি।’ পরে একই বক্তব্য আবারও পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার প্রায় ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়েও ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে।

ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নভেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৩০-২০৫ আসনে জয় পেতে পারে। সিনেটেও ডেমোক্র্যাটদের ৫১-৪৯ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বক্তব্যে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তোলেন। সংঘাতের কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলেও তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় ছিল। এরপর অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইরান সম্ভবত আরও দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারত। এ কারণেই সংঘাতে জড়ানো প্রয়োজন ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এ সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে বিজয়ের পর তেলের দাম কমবে বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের ভাষ্য, খাদ্যসহ প্রায় সব পণ্যের দাম দ্রুত কমছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দামও কমে যাবে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পক্ষেও অবস্থান জানান ট্রাম্প। তার দাবি, এতে সাময়িক অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রিপাবলিকানরা জিতলে ট্রাম্পের ট্রিলিয়ন ডলারের ঘোষণা

আপডেট সময় ১১:৫৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট – দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ অর্থের নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’।

আরও পড়ুন  বুদাপেস্টে ট্রাম্প–পুতিন বৈঠক: পুতিন কীভাবে পৌঁছাবেন, তা এখনো অনিশ্চিত

স্থানীয় সময় বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা নির্বাচনে জয়ী হলে তারাও জয়ী হবেন এবং ৫ হাজার ডলার পাবেন। তিনি এই অর্থকে ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কমপক্ষে ১ ট্রিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে আর্থিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।

এই বিপুল অর্থের উৎস কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। তিনি শুধু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রচুর অর্থ আয় করছে।

নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট-দুই কক্ষেই রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে বলে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের বলছি, ধরে নিন আমিও ব্যালটে আছি।’ পরে একই বক্তব্য আবারও পুনরাবৃত্তি করেন তিনি।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার প্রায় ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নিয়েও ভোটারদের অসন্তোষ বাড়ছে।

ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নভেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৩০-২০৫ আসনে জয় পেতে পারে। সিনেটেও ডেমোক্র্যাটদের ৫১-৪৯ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বক্তব্যে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তোলেন। সংঘাতের কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলেও তিনি পরোক্ষভাবে স্বীকার করেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ভালো অবস্থায় ছিল। এরপর অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইরান সম্ভবত আরও দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারত। এ কারণেই সংঘাতে জড়ানো প্রয়োজন ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এ সময় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নাম নিজের নামে পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেন ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে বিজয়ের পর তেলের দাম কমবে বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্রাম্পের ভাষ্য, খাদ্যসহ প্রায় সব পণ্যের দাম দ্রুত কমছে। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দামও কমে যাবে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পক্ষেও অবস্থান জানান ট্রাম্প। তার দাবি, এতে সাময়িক অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া যাবে।