ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উন্মোচিত হলো অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন: আইফোন ডুও

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 40

আইফোন ডুও। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অ্যাপল উন্মোচন করেছে তাদের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন, নাম দেওয়া হয়েছে আইফোন ডুও। বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস, যিনি এই দায়িত্বে প্রথমবারের মতো কোনো পণ্য উন্মোচন করলেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় অবস্থিত অ্যাপলের সদর দপ্তরের স্টিভ জবস থিয়েটার থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে টার্নাস মন্তব্য করেন, বাজারে থাকা অন্যান্য ফোল্ডেবল ফোনগুলো যেন দুটি আলাদা ফোনকে জোড়া লাগানোর মতো ব্যবহারে অস্বস্তিকর অনুভূতি দেয়। তিনি জানান, অ্যাপলের লক্ষ্য ছিল এমন একটি বড় স্ক্রিনের ডিভাইস তৈরি করা, যা ব্যবহার করলে আইপ্যাডের মতোই স্বাভাবিক অনুভূতি পাওয়া যাবে।

নকশার দিক থেকে আইফোন ডুও অনেকটা পাসপোর্টের আকৃতির, কোণাগুলো গোলাকার। খোলা অবস্থায় এর পর্দা হবে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি (প্রায় ১৯ সেন্টিমিটার) আকারের। অ্যাপল দাবি করেছে, সম্পূর্ণ প্রসারিত অবস্থায় এটিই তাদের তৈরি সবচেয়ে চিকন আইফোন।

আরও পড়ুন  কমছে ৬০% আমদানি শুল্ক কত কমবে স্মার্টফোনের দাম

বিদ্যমান ফোল্ডেবল ডিভাইসগুলো নিয়ে সমালোচনা করে টার্নাস বলেন, এই ফোনগুলো ব্যবহারে বেশ অস্বস্তিকর এবং স্ক্রলিং বা ভিডিও দেখার মতো সাধারণ কাজেও তেমন কার্যকর নয়। তার দাবি অনুযায়ী, পকেটে বহনযোগ্য অথচ আইপ্যাডসম অভিজ্ঞতা দিতেই বিশেষভাবে নকশা করা হিঞ্জ, সমান অনুপাতের দুটি স্ক্রিন এবং নতুন টাইটানিয়াম কাঠামো ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে আইফোন ডুও।

তিনি আরও বলেন, ডিভাইসটি একদিকে যেমন একেবারে নতুন ধরনের, তেমনি হাতে নিলে পরিচিত অনুভূতিও দেয়—আকারে যা অনেকটা পাসপোর্টের কাছাকাছি এবং এক হাতেই সহজে ব্যবহারযোগ্য।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, নতুন এই ফোনে থাকছে ‘এ২০ প্রো’ চিপ এবং অ্যাপলের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন ‘সি২’ মডেম। ওয়্যারলেস সংযোগের জন্য কোয়ালকমের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতেই এই মডেম চিপ তৈরি করেছে অ্যাপল। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে আইফোন ডুও প্রি-অর্ডার করা যাবে, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ মার্কিন ডলার। ফোনটিতে থাকছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ডুয়েল ফিউশন ক্যামেরা সিস্টেম।

উন্মোচিত হলো অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন: আইফোন ডুও
আইফোন ডুও। ছবি: সংগৃহীত

আলোচনায় আইফোনকে ব্যক্তিগত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরেন টার্নাস, পাশাপাশি ব্যবহারকারীর তথ্য গোপনীয়তার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষায়, ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে গেলে আস্থার জায়গাতেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়—এ কারণেই যথাসম্ভব অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই পরিচালিত হয়।

অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগের নেতৃত্বে থাকা লিলিয়ান রিনকন হালনাগাদকৃত সিরির নতুন বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরেন। তার তথ্যমতে, বাজারে আসার সময়েই নতুন সিরি প্রায় তিন লাখ অ্যাপের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে গুগল ছেড়ে অ্যাপলে যোগ দেন রিনকন।

আইফোন ১৮ সিরিজের প্রো ও প্রো ম্যাক্স সংস্করণ

অনুষ্ঠানের শুরুতে টার্নাস উন্মোচন করেন আইফোন ১৮ সিরিজের প্রো ও প্রো ম্যাক্স মডেল দুটি। ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারজাত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই নতুন সংস্করণ এনেছে অ্যাপল, আর সেই ধারাবাহিকতাতেই ২০২৬ সালে এসেছে বহুল প্রতীক্ষিত এই সিরিজ।

উভয় মডেলেই ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাপলের সর্বাধুনিক ‘এ২০ প্রো’ চিপ, যা উন্নত এআই মডেল সরাসরি ফোনে চালানো সহজ করে তুলবে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির। এই দুই মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ব্যাটারি সক্ষমতায়ও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন আনা হয়েছে। আইফোন ১৮ প্রোর মূল্য শুরু হচ্ছে ১ হাজার ১৯৯ ডলার থেকে, আর প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে—যা আগের প্রজন্মের তুলনায় উভয় ক্ষেত্রেই ১০০ ডলার বেশি।

এআই দ্বারা তৈরি বা সম্পাদিত ছবি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে অ্যাপল এনেছে নতুন এক যাচাই ব্যবস্থা, যার নাম ‘অ্যাপল রেফারেন্স ইমেজ’। এর মাধ্যমে আইফোন ১৮ প্রোর ক্যামেরায় তোলা ছবির সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে, যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। এর পাশাপাশি এআই-নির্মিত ছবি শনাক্তে ‘সিন্থআইডি’ নামের আরেকটি মানদণ্ডও যুক্ত করেছে অ্যাপল।

নতুন এয়ারপডস ও অ্যাপল ওয়াচ

বাজারে এসেছে এয়ারপডসের নতুন সংস্করণ, এয়ারপডস ৫, যার দাম শুরু হচ্ছে ১২৯ ডলার থেকে। তুলনামূলক সাশ্রয়ী এই মডেলেই প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে নয়েজ ক্যানসেলেশন সুবিধা। এ ছাড়া ১৪৯ ডলার মূল্যের আরেকটি সংস্করণে থাকছে ওয়্যারলেস চার্জিং এবং স্টেমে স্পর্শের মাধ্যমে ভলিউম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা।

পাশাপাশি অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ এবং অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৪ মডেলও উন্মোচন করা হয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সুবিধাকে বিশেষভাবে উন্নত করা হয়েছে। নতুন সেন্সর প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও ঘন ঘন হৃদস্পন্দন পরিমাপ সম্ভব হবে, যা শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ও ফিটনেস পর্যবেক্ষণে সহায়ক হবে। অ্যাপলের দাবি অনুযায়ী, উন্নত চিপ ও সেন্সরের কারণে এই দুটি ঘড়িই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভুলভাবে হৃদস্পন্দন পরিমাপে সক্ষম।

উন্মোচিত হলো অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন: আইফোন ডুও
আইফোন ডুও। ছবি: সংগৃহীত

বাজার প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

গত অর্থবছরে আইফোন বিক্রি থেকে অ্যাপলের আয় হয়েছিল ২০৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যা কোম্পানির মোট আয়ের অর্ধেকেরও বেশি। বাজার বিশ্লেষক পাওলো পেসকাতোর রয়টার্সকে জানান, অ্যাপল এর মাধ্যমে একটি নতুন প্রিমিয়াম বাজার সৃষ্টি করেছে এবং আইফোন ব্যবসায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে।

তবে পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠান চলাকালেই অ্যাপলের শেয়ারের দরে ১ শতাংশ পতন হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে তা আরও কমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৮ শতাংশে।

এর আগে বাজার বিশ্লেষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি) পূর্বাভাস দিয়েছিল, ২০২৭ সালের মধ্যে অ্যাপলের ফোল্ডেবল আইফোন বিক্রি হতে পারে ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি ইউনিট, যা থেকে আয় হতে পারে ৪৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল জানান, ফোল্ডেবল বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ কেবল এই খাতে প্রবৃদ্ধি ফেরাবে না, বরং সামগ্রিক বাজার কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে পারে।

আইডিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক ফোল্ডেবল ফোনের বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ দখলে নিতে পারে অ্যাপল, আর এই খাতের মোট বাজারমূল্যের অর্ধেকেরও বেশি যেতে পারে তাদের হাতে। নতুন এই ফোনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ফোল্ডেবল বাজারে নেতৃত্বদানকারী স্যামসাং ও হুয়াওয়ের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবে অ্যাপল।

নিউজটি শেয়ার করুন

উন্মোচিত হলো অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন: আইফোন ডুও

আপডেট সময় ০৩:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অ্যাপল উন্মোচন করেছে তাদের প্রথম ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোন, নাম দেওয়া হয়েছে আইফোন ডুও। বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস, যিনি এই দায়িত্বে প্রথমবারের মতো কোনো পণ্য উন্মোচন করলেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার কুপারটিনোয় অবস্থিত অ্যাপলের সদর দপ্তরের স্টিভ জবস থিয়েটার থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে টার্নাস মন্তব্য করেন, বাজারে থাকা অন্যান্য ফোল্ডেবল ফোনগুলো যেন দুটি আলাদা ফোনকে জোড়া লাগানোর মতো ব্যবহারে অস্বস্তিকর অনুভূতি দেয়। তিনি জানান, অ্যাপলের লক্ষ্য ছিল এমন একটি বড় স্ক্রিনের ডিভাইস তৈরি করা, যা ব্যবহার করলে আইপ্যাডের মতোই স্বাভাবিক অনুভূতি পাওয়া যাবে।

নকশার দিক থেকে আইফোন ডুও অনেকটা পাসপোর্টের আকৃতির, কোণাগুলো গোলাকার। খোলা অবস্থায় এর পর্দা হবে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি (প্রায় ১৯ সেন্টিমিটার) আকারের। অ্যাপল দাবি করেছে, সম্পূর্ণ প্রসারিত অবস্থায় এটিই তাদের তৈরি সবচেয়ে চিকন আইফোন।

আরও পড়ুন  এক ক্লিকেই জানুন: ইফতারে কোন মসজিদে মিলবে বিরিয়ানি বা তেহারি!

বিদ্যমান ফোল্ডেবল ডিভাইসগুলো নিয়ে সমালোচনা করে টার্নাস বলেন, এই ফোনগুলো ব্যবহারে বেশ অস্বস্তিকর এবং স্ক্রলিং বা ভিডিও দেখার মতো সাধারণ কাজেও তেমন কার্যকর নয়। তার দাবি অনুযায়ী, পকেটে বহনযোগ্য অথচ আইপ্যাডসম অভিজ্ঞতা দিতেই বিশেষভাবে নকশা করা হিঞ্জ, সমান অনুপাতের দুটি স্ক্রিন এবং নতুন টাইটানিয়াম কাঠামো ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে আইফোন ডুও।

তিনি আরও বলেন, ডিভাইসটি একদিকে যেমন একেবারে নতুন ধরনের, তেমনি হাতে নিলে পরিচিত অনুভূতিও দেয়—আকারে যা অনেকটা পাসপোর্টের কাছাকাছি এবং এক হাতেই সহজে ব্যবহারযোগ্য।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, নতুন এই ফোনে থাকছে ‘এ২০ প্রো’ চিপ এবং অ্যাপলের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি নতুন ‘সি২’ মডেম। ওয়্যারলেস সংযোগের জন্য কোয়ালকমের প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমাতেই এই মডেম চিপ তৈরি করেছে অ্যাপল। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে আইফোন ডুও প্রি-অর্ডার করা যাবে, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯৯ মার্কিন ডলার। ফোনটিতে থাকছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের ডুয়েল ফিউশন ক্যামেরা সিস্টেম।

উন্মোচিত হলো অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন: আইফোন ডুও
আইফোন ডুও। ছবি: সংগৃহীত

আলোচনায় আইফোনকে ব্যক্তিগত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরেন টার্নাস, পাশাপাশি ব্যবহারকারীর তথ্য গোপনীয়তার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষায়, ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে গেলে আস্থার জায়গাতেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়—এ কারণেই যথাসম্ভব অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই পরিচালিত হয়।

অ্যাপলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগের নেতৃত্বে থাকা লিলিয়ান রিনকন হালনাগাদকৃত সিরির নতুন বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরেন। তার তথ্যমতে, বাজারে আসার সময়েই নতুন সিরি প্রায় তিন লাখ অ্যাপের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে গুগল ছেড়ে অ্যাপলে যোগ দেন রিনকন।

আইফোন ১৮ সিরিজের প্রো ও প্রো ম্যাক্স সংস্করণ

অনুষ্ঠানের শুরুতে টার্নাস উন্মোচন করেন আইফোন ১৮ সিরিজের প্রো ও প্রো ম্যাক্স মডেল দুটি। ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারজাত হওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই নতুন সংস্করণ এনেছে অ্যাপল, আর সেই ধারাবাহিকতাতেই ২০২৬ সালে এসেছে বহুল প্রতীক্ষিত এই সিরিজ।

উভয় মডেলেই ব্যবহৃত হয়েছে অ্যাপলের সর্বাধুনিক ‘এ২০ প্রো’ চিপ, যা উন্নত এআই মডেল সরাসরি ফোনে চালানো সহজ করে তুলবে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির। এই দুই মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ব্যাটারি সক্ষমতায়ও উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন আনা হয়েছে। আইফোন ১৮ প্রোর মূল্য শুরু হচ্ছে ১ হাজার ১৯৯ ডলার থেকে, আর প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে—যা আগের প্রজন্মের তুলনায় উভয় ক্ষেত্রেই ১০০ ডলার বেশি।

এআই দ্বারা তৈরি বা সম্পাদিত ছবি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে অ্যাপল এনেছে নতুন এক যাচাই ব্যবস্থা, যার নাম ‘অ্যাপল রেফারেন্স ইমেজ’। এর মাধ্যমে আইফোন ১৮ প্রোর ক্যামেরায় তোলা ছবির সত্যতা নিশ্চিত করা যাবে, যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না। এর পাশাপাশি এআই-নির্মিত ছবি শনাক্তে ‘সিন্থআইডি’ নামের আরেকটি মানদণ্ডও যুক্ত করেছে অ্যাপল।

নতুন এয়ারপডস ও অ্যাপল ওয়াচ

বাজারে এসেছে এয়ারপডসের নতুন সংস্করণ, এয়ারপডস ৫, যার দাম শুরু হচ্ছে ১২৯ ডলার থেকে। তুলনামূলক সাশ্রয়ী এই মডেলেই প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে নয়েজ ক্যানসেলেশন সুবিধা। এ ছাড়া ১৪৯ ডলার মূল্যের আরেকটি সংস্করণে থাকছে ওয়্যারলেস চার্জিং এবং স্টেমে স্পর্শের মাধ্যমে ভলিউম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা।

পাশাপাশি অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ এবং অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৪ মডেলও উন্মোচন করা হয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সুবিধাকে বিশেষভাবে উন্নত করা হয়েছে। নতুন সেন্সর প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও ঘন ঘন হৃদস্পন্দন পরিমাপ সম্ভব হবে, যা শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ও ফিটনেস পর্যবেক্ষণে সহায়ক হবে। অ্যাপলের দাবি অনুযায়ী, উন্নত চিপ ও সেন্সরের কারণে এই দুটি ঘড়িই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভুলভাবে হৃদস্পন্দন পরিমাপে সক্ষম।

উন্মোচিত হলো অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন: আইফোন ডুও
আইফোন ডুও। ছবি: সংগৃহীত

বাজার প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

গত অর্থবছরে আইফোন বিক্রি থেকে অ্যাপলের আয় হয়েছিল ২০৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যা কোম্পানির মোট আয়ের অর্ধেকেরও বেশি। বাজার বিশ্লেষক পাওলো পেসকাতোর রয়টার্সকে জানান, অ্যাপল এর মাধ্যমে একটি নতুন প্রিমিয়াম বাজার সৃষ্টি করেছে এবং আইফোন ব্যবসায় নতুন গতি সঞ্চার করেছে।

তবে পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠান চলাকালেই অ্যাপলের শেয়ারের দরে ১ শতাংশ পতন হয় এবং অনুষ্ঠান শেষে তা আরও কমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৮ শতাংশে।

এর আগে বাজার বিশ্লেষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি) পূর্বাভাস দিয়েছিল, ২০২৭ সালের মধ্যে অ্যাপলের ফোল্ডেবল আইফোন বিক্রি হতে পারে ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি ইউনিট, যা থেকে আয় হতে পারে ৪৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল জানান, ফোল্ডেবল বাজারে অ্যাপলের প্রবেশ কেবল এই খাতে প্রবৃদ্ধি ফেরাবে না, বরং সামগ্রিক বাজার কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে পারে।

আইডিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক ফোল্ডেবল ফোনের বাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ দখলে নিতে পারে অ্যাপল, আর এই খাতের মোট বাজারমূল্যের অর্ধেকেরও বেশি যেতে পারে তাদের হাতে। নতুন এই ফোনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ফোল্ডেবল বাজারে নেতৃত্বদানকারী স্যামসাং ও হুয়াওয়ের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামবে অ্যাপল।