ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই দিয়ে ‘নব্বই দশকের’ ছবি বানানোর আগে যে ঝুঁকিগুলো জানা জরুরি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:২৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 125

ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নব্বই দশকের আবহে তৈরি করা ছবি। পুরোনো দিনের পোশাক, ঢাকার সেকালের পরিবেশ কিংবা সিনেমার নায়ক-নায়িকার সাজে নিজেদের ছবি তৈরি করছেন অনেকে। একটি এআই অ্যাপে ছবি আপলোড করলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বদলে যাচ্ছে চেহারা, চুলের ধরন ও পেছনের দৃশ্য। তবে বিনোদনের এই প্রবণতার আড়ালে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ঝুঁকি।

এআই প্ল্যাটফর্মে নিজের ছবি আপলোড করার অর্থ শুধু মুখের ছবি অন্যের সার্ভারে পাঠানো নয়। ছবির পেছনে থাকা বাড়ি, অফিসের পরিচয়পত্র, আশপাশের পরিবেশ কিংবা ছবির মেটাডেটায় থাকা অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যও অনিচ্ছাকৃতভাবে চলে যেতে পারে প্ল্যাটফর্মটির কাছে। পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে সেটি পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও মুখের গঠন বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তাই অপরিচিত কোনো অ্যাপে ছবি দেওয়ার আগে এর তথ্য ব্যবহারের নীতিমালা সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।

ছবি আপলোডের আগে প্রথমেই দেখে নেওয়া উচিত অ্যাপটির শর্ত ও মেয়াদ। আপনার ছবি কতদিন সংরক্ষণ করা হবে, কাজ শেষ হওয়ার পর তা মুছে ফেলা হবে কি না এবং আপলোড করা ছবি দিয়ে এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে কি না, এসব বিষয় ব্যবহারের শর্তে উল্লেখ থাকতে পারে।

আরও পড়ুন  তরুণদের এআই ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়বে অন্তর্বর্তী সরকার: আসিফ মাহমুদ

এ ছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনুমতি দেওয়াও এড়িয়ে চলা উচিত। একটি ছবি সম্পাদনার জন্য পুরো গ্যালারি, লোকেশন, ক্যামেরা কিংবা কন্টাক্টসের অনুমতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সম্ভব হলে শুধু যে ছবিটি সম্পাদনা করবেন, সেটির অ্যাকসেসই দেওয়া উচিত।

জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ব্যাংক কার্ডের মতো সংবেদনশীল নথির ছবি কোনো এআই টুলে আপলোড না করাই নিরাপদ। এসব নথিতে থাকা ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অনেকে মনে করেন, অ্যাপ থেকে ছবি বা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললেই সংশ্লিষ্ট সব তথ্যও মুছে যায়। বাস্তবে সব ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে। কোনো কোনো সেবার ব্যাকআপ সার্ভারে ব্যবহারকারীর তথ্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে। তাই ছবি মুছে ফেলার সুযোগ আছে কি না এবং মুছে ফেলার পরও কোনো তথ্য সংরক্ষিত থাকে কি না, তা আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

এআই দিয়ে তৈরি রেট্রো ছবির আরেকটি ঝুঁকি হলো ছবি ও কণ্ঠের নমুনার অপব্যবহার। ব্যক্তিগত ছবি বা কণ্ঠের নমুনা সহজে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে সেগুলো ব্যবহার করে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি কিংবা বিভ্রান্তিকর ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানানোর আশঙ্কা থাকে।

তবে এসব ঝুঁকি থাকলেও এআই ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। ফটো এডিটিং সহজ করার পাশাপাশি প্রযুক্তিটি অল্প সময়ে সৃজনশীল কাজের সুযোগও তৈরি করেছে। প্রয়োজন শুধু ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা। কারণ রেট্রো ছবির ট্রেন্ড বদলে যেতে পারে, কিন্তু অনলাইনে একবার ছড়িয়ে পড়া ব্যক্তিগত তথ্য সবসময় সহজে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই এআইয়ের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের তথ্যের নিয়ন্ত্রণও নিজের হাতেই রাখা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এআই দিয়ে ‘নব্বই দশকের’ ছবি বানানোর আগে যে ঝুঁকিগুলো জানা জরুরি

আপডেট সময় ০১:২৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নব্বই দশকের আবহে তৈরি করা ছবি। পুরোনো দিনের পোশাক, ঢাকার সেকালের পরিবেশ কিংবা সিনেমার নায়ক-নায়িকার সাজে নিজেদের ছবি তৈরি করছেন অনেকে। একটি এআই অ্যাপে ছবি আপলোড করলেই কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বদলে যাচ্ছে চেহারা, চুলের ধরন ও পেছনের দৃশ্য। তবে বিনোদনের এই প্রবণতার আড়ালে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ঝুঁকি।

এআই প্ল্যাটফর্মে নিজের ছবি আপলোড করার অর্থ শুধু মুখের ছবি অন্যের সার্ভারে পাঠানো নয়। ছবির পেছনে থাকা বাড়ি, অফিসের পরিচয়পত্র, আশপাশের পরিবেশ কিংবা ছবির মেটাডেটায় থাকা অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যও অনিচ্ছাকৃতভাবে চলে যেতে পারে প্ল্যাটফর্মটির কাছে। পাসওয়ার্ড ফাঁস হলে সেটি পরিবর্তন করা সম্ভব হলেও মুখের গঠন বদলে ফেলা সম্ভব নয়। তাই অপরিচিত কোনো অ্যাপে ছবি দেওয়ার আগে এর তথ্য ব্যবহারের নীতিমালা সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।

ছবি আপলোডের আগে প্রথমেই দেখে নেওয়া উচিত অ্যাপটির শর্ত ও মেয়াদ। আপনার ছবি কতদিন সংরক্ষণ করা হবে, কাজ শেষ হওয়ার পর তা মুছে ফেলা হবে কি না এবং আপলোড করা ছবি দিয়ে এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে কি না, এসব বিষয় ব্যবহারের শর্তে উল্লেখ থাকতে পারে।

আরও পড়ুন  তরুণদের এআই ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়বে অন্তর্বর্তী সরকার: আসিফ মাহমুদ

এ ছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনুমতি দেওয়াও এড়িয়ে চলা উচিত। একটি ছবি সম্পাদনার জন্য পুরো গ্যালারি, লোকেশন, ক্যামেরা কিংবা কন্টাক্টসের অনুমতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সম্ভব হলে শুধু যে ছবিটি সম্পাদনা করবেন, সেটির অ্যাকসেসই দেওয়া উচিত।

জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ব্যাংক কার্ডের মতো সংবেদনশীল নথির ছবি কোনো এআই টুলে আপলোড না করাই নিরাপদ। এসব নথিতে থাকা ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অনেকে মনে করেন, অ্যাপ থেকে ছবি বা অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললেই সংশ্লিষ্ট সব তথ্যও মুছে যায়। বাস্তবে সব ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে। কোনো কোনো সেবার ব্যাকআপ সার্ভারে ব্যবহারকারীর তথ্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে। তাই ছবি মুছে ফেলার সুযোগ আছে কি না এবং মুছে ফেলার পরও কোনো তথ্য সংরক্ষিত থাকে কি না, তা আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

এআই দিয়ে তৈরি রেট্রো ছবির আরেকটি ঝুঁকি হলো ছবি ও কণ্ঠের নমুনার অপব্যবহার। ব্যক্তিগত ছবি বা কণ্ঠের নমুনা সহজে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে সেগুলো ব্যবহার করে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি কিংবা বিভ্রান্তিকর ‘ডিপফেক’ ভিডিও বানানোর আশঙ্কা থাকে।

তবে এসব ঝুঁকি থাকলেও এআই ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। ফটো এডিটিং সহজ করার পাশাপাশি প্রযুক্তিটি অল্প সময়ে সৃজনশীল কাজের সুযোগও তৈরি করেছে। প্রয়োজন শুধু ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা। কারণ রেট্রো ছবির ট্রেন্ড বদলে যেতে পারে, কিন্তু অনলাইনে একবার ছড়িয়ে পড়া ব্যক্তিগত তথ্য সবসময় সহজে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই এআইয়ের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের তথ্যের নিয়ন্ত্রণও নিজের হাতেই রাখা জরুরি।