গুম-খুনের প্রশ্ন না তুলে অনেক সাংবাদিক তৈলমর্দনে ব্যস্ত ছিলেন— কাদের গনি চৌধুরী
- আপডেট সময় ০৪:৫৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 16
রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানদের প্রশ্নের মুখোমুখি করা এবং জবাবদিহির আওতায় রাখাই সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেন, এ ধরনের সাংবাদিকতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।
রোববার, ২ আগস্ট দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সত্য বলার সাহসই সাংবাদিকতার মূল শক্তি। তার মতে, গণমাধ্যমে সৎ, সত্যনিষ্ঠ ও পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতার প্রয়োজন থাকলেও বাস্তবে এর ঘাটতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দলীয় প্রভাব, অপসাংবাদিকতা, হলুদ সাংবাদিকতা এবং তথ্যসন্ত্রাসের কারণে সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, একটি আদর্শ গণমাধ্যম কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী, সরকার, বিদেশি রাষ্ট্র বা সংস্থার কাছে দায়বদ্ধ থাকে না; বরং তার দায়বদ্ধতা থাকে জনগণের প্রতি। তার ভাষায়, গণমাধ্যম দুর্বল হলে শেষ পর্যন্ত জনগণ ও রাষ্ট্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কাদের গনি চৌধুরী দাবি করেন, বিগত সরকারের সময়ে জনগণের সঙ্গে গণমাধ্যমের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংবাদ সম্মেলনে গুম-খুনের মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন না তুলে অনেক সাংবাদিক তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসায় ব্যস্ত থাকতেন। তার দাবি, এ কারণে অনেক সংবাদ সম্মেলন কার্যত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পরিণত হতো।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন সবুজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।





















