ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :

পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ফিরিয়া দিলেন জেলেনস্কি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৪:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / 16

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে দেওয়া পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ ফেরত দিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি সম্মাননাটি বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর জেলেনস্কি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৯ জুন) পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি জেলেনস্কিকে দেওয়া সম্মাননা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এর পরদিন শনিবার (২০ জুন) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পদকটি ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে ২০২৩ সালে তৎকালীন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা জেলেনস্কিকে ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ প্রদান করেছিলেন, যা দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন  গোপন সফরে আফ্রিকায় তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট, ‘ইঁদুর’ আখ্যা দিল চীন

সম্প্রতি ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে ‘ইউক্রেনিয়ান ইনসার্জেন্ট আর্মি’ (ইউপিএ)-এর নামে রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সক্রিয় থাকা এই গোষ্ঠীকে নিয়ে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক মতপার্থক্য রয়েছে।

ইউক্রেনে ইউপিএকে অনেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, সংগঠনটি সোভিয়েত বাহিনী, নাৎসি জার্মানি এবং পোলিশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। বর্তমানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কিছু ইউনিটেও ইউপিএর লাল-কালো পতাকা ব্যবহারের বিষয়টি দেখা যায়।

অন্যদিকে পোল্যান্ডের অভিযোগ, ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে ভলহিনিয়া অঞ্চলে ইউপিএ প্রায় এক লাখ পোলিশ নাগরিক হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। এ ঘটনাকে তারা জাতিগত নিধন হিসেবে বিবেচনা করে।

জেলেনস্কির সিদ্ধান্তের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইউক্রেনের আরও তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাদের প্রাপ্ত পোলিশ সম্মাননাও ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, দুই দেশের যৌথ ইতিহাসের সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলো নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ইউক্রেন পোল্যান্ডের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পোল্যান্ডের সহায়তা ও সংহতির জন্য ইউক্রেন কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পোল্যান্ড ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। দেশটি বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং সামরিক ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ফিরিয়া দিলেন জেলেনস্কি

আপডেট সময় ১১:৩৪:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তাকে দেওয়া পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ ফেরত দিয়েছেন। পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি সম্মাননাটি বাতিলের ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর জেলেনস্কি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৯ জুন) পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি জেলেনস্কিকে দেওয়া সম্মাননা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এর পরদিন শনিবার (২০ জুন) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পদকটি ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে ২০২৩ সালে তৎকালীন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা জেলেনস্কিকে ‘অর্ডার অব দ্য হোয়াইট ঈগল’ প্রদান করেছিলেন, যা দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন  মার্কিন জনগণের প্রতি বিদ্বেষ নেই ইরানের: প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

সম্প্রতি ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটের নাম পরিবর্তন করে ‘ইউক্রেনিয়ান ইনসার্জেন্ট আর্মি’ (ইউপিএ)-এর নামে রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সক্রিয় থাকা এই গোষ্ঠীকে নিয়ে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক মতপার্থক্য রয়েছে।

ইউক্রেনে ইউপিএকে অনেকেই স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, সংগঠনটি সোভিয়েত বাহিনী, নাৎসি জার্মানি এবং পোলিশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল। বর্তমানে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কিছু ইউনিটেও ইউপিএর লাল-কালো পতাকা ব্যবহারের বিষয়টি দেখা যায়।

অন্যদিকে পোল্যান্ডের অভিযোগ, ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে ভলহিনিয়া অঞ্চলে ইউপিএ প্রায় এক লাখ পোলিশ নাগরিক হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। এ ঘটনাকে তারা জাতিগত নিধন হিসেবে বিবেচনা করে।

জেলেনস্কির সিদ্ধান্তের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইউক্রেনের আরও তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাদের প্রাপ্ত পোলিশ সম্মাননাও ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, দুই দেশের যৌথ ইতিহাসের সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলো নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ইউক্রেন পোল্যান্ডের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে পোল্যান্ডের সহায়তা ও সংহতির জন্য ইউক্রেন কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পোল্যান্ড ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। দেশটি বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং সামরিক ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।