ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত একনেকে অনুমোদনের উদ্যোগ: পানিসম্পদ মন্ত্রী লড়াই করেও পারল না বাংলাদেশ, সিরিজ জিতে নিল অস্ট্রেলিয়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যু, সাহিত্যাঙ্গনে শোক মেসির বাবার মৃত্যুর ভুয়া খবর, চাকরি হারালেন উপস্থাপিকা টাকা ও জমির হিসাব চাইতেই জামাইকে নির্যাতন, গাছে বেঁধে মারধরের অভিযোগ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টসে হেরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বোলিংয়ে বাংলাদেশ ডাক্তারদের অপ্রয়োজনীয় ওষুধ-পরীক্ষা কমাতে আসছে জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা আর্জেন্টিনা সমর্থকের গাড়িতে গুলিবর্ষণ কানসাসে নিহত ১

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত একনেকে অনুমোদনের উদ্যোগ: পানিসম্পদ মন্ত্রী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:২৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • / 0

ছবি: সংগৃহীত

 

 

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে চলছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-আলজেরিয়া বাণিজ্য বাড়াতে যৌথ উদ্যোগের আহ্বান

শুক্রবার, ১৯ জুন দুপুরে তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন শেষে নীলফামারীর অবসর রেস্ট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, উজানে গজলডোবা ব্যারেজ থেকে নেমে আসা প্রবল পানির স্রোতের কারণে তিস্তা নদীতে ভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পানিপ্রবাহের ফলে অনেক এলাকায় মানুষের বসবাসও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পরিকল্পিতভাবে নদী খনন এবং প্রয়োজনীয় স্থানে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মহাপরিকল্পনাটি এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এটি শুধু উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য নয়, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে।

শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, তিস্তা নদীর সংকট কোনো নির্দিষ্ট জেলার সমস্যা নয়; এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি চ্যালেঞ্জ। প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগলেও এর সুফল দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি কৃষিনির্ভর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া নদী খনন বা বাঁধ নির্মাণ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। পানিশূন্যতা ও বন্যা—দুই ধরনের সমস্যাই তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিকল্পিত ড্রেজিং ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তীরবর্তী এলাকার মানুষ ও তাদের সম্পদ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এমন একটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে, যার মাধ্যমে তিস্তার ভাঙন রোধ, নদী খনন এবং বিপুল পরিমাণ জমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে এ প্রকল্প নিয়ে নানা আলোচনা হলেও বর্তমান সরকার সেসব বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে বাস্তবায়নের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সভায় নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত একনেকে অনুমোদনের উদ্যোগ: পানিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:২৮:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

 

 

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রকল্পটি চূড়ান্ত করার কাজ এগিয়ে চলছে।

আরও পড়ুন  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

শুক্রবার, ১৯ জুন দুপুরে তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শন শেষে নীলফামারীর অবসর রেস্ট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, উজানে গজলডোবা ব্যারেজ থেকে নেমে আসা প্রবল পানির স্রোতের কারণে তিস্তা নদীতে ভাঙন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পানিপ্রবাহের ফলে অনেক এলাকায় মানুষের বসবাসও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় পরিকল্পিতভাবে নদী খনন এবং প্রয়োজনীয় স্থানে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, তিস্তা নদীকেন্দ্রিক বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মহাপরিকল্পনাটি এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এটি শুধু উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য নয়, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে।

শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, তিস্তা নদীর সংকট কোনো নির্দিষ্ট জেলার সমস্যা নয়; এটি জাতীয় পর্যায়ের একটি চ্যালেঞ্জ। প্রকল্প বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগলেও এর সুফল দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি কৃষিনির্ভর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া নদী খনন বা বাঁধ নির্মাণ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। পানিশূন্যতা ও বন্যা—দুই ধরনের সমস্যাই তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন ও জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিকল্পিত ড্রেজিং ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তীরবর্তী এলাকার মানুষ ও তাদের সম্পদ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

মতবিনিময় সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এমন একটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে, যার মাধ্যমে তিস্তার ভাঙন রোধ, নদী খনন এবং বিপুল পরিমাণ জমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে এ প্রকল্প নিয়ে নানা আলোচনা হলেও বর্তমান সরকার সেসব বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে বাস্তবায়নের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সভায় নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান, লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।