বেনজীরকে ফেরত নিতে আমিরাতের চিঠি
- আপডেট সময় ১২:২৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / 55
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ অনুযায়ী দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ জন্য ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লন্ডন থেকে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশে যাত্রাকালে দুবাইয়ে ট্রানজিটের সময় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘এনসিবি আবুধাবি’ বাংলাদেশ পুলিশের ‘এনসিবি ঢাকা’ শাখার কাছে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ (নং- A-5174/4-2025) এবং বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন জমা দিতে হবে। অন্যথায় আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের পর বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচারিক কর্তৃপক্ষের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় আদালত দেশটির ‘ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬’-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেন।
দুবাই থেকে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য মূল প্রত্যর্পণ অনুরোধপত্রের সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে হবে। এসব নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে যথাযথ স্বাক্ষর ও সিলমোহরসহ উপস্থাপন করতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথির মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম, পরিচয়, ছবি, জাতীয়তা ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য; যে অপরাধের অভিযোগে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তার আইনি ভিত্তি, সংশ্লিষ্ট ধারা ও সর্বোচ্চ শাস্তির বিবরণ; বাংলাদেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা; মামলার ঘটনা, অপরাধের ধরন, সময় ও স্থান উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি; এবং তিনি যদি কোনো মামলায় ইতোমধ্যে দণ্ডিত হয়ে থাকেন, তাহলে আদালতের রায় ও সাজা কার্যকরের আনুষ্ঠানিক নথি।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া দুদকের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। সেই নোটিশের ভিত্তিতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

























