ওমান সাগরে তেল ট্যাংকারে মার্কিন হামলা, ২০ ভারতীয় নাবিক উদ্ধার
- আপডেট সময় ০৯:৪৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / 21
ওমান সাগরে ইরানমুখী একটি তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মার্কিন বাহিনীর দাবি, নৌ অবরোধসংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করে জাহাজটি ইরানের দিকে অগ্রসর হওয়ায় এর ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজটি মাঝসমুদ্রে বিকল হয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি জলবীর’ নামের তেল ট্যাংকারটির ওপর বুধবার, ১০ জুন স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিটে এ হামলা চালানো হয়।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটিকে একাধিকবার গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে ক্রুরা সেই নির্দেশনা অনুসরণ না করে ইরানি বন্দরের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখেন। পরে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়।
ভারতের বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটিতে ২০ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইঞ্জিন রুমে আগুন ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হলেও ওমানের কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর উদ্ধার অভিযানে সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তাদের ওমানের শিনাস বন্দরে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ওমান সাগরে ভারতীয় নাবিক থাকা কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন অভিযানের এটি তৃতীয় ঘটনা। এর আগে ‘এমটি মারিভেক্স’ ও ‘এমটি সেত্তেবেলো’ নামের দুটি জাহাজেও একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘এমটি সেত্তেবেলো’ জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। এ ঘটনার পর ভারতের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ধারাবাহিক এসব ঘটনাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সেন্টকমের বিবৃতিতে ব্যবহৃত হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ‘এজিএম-১১৪’ নামে পরিচিত এ ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত সামরিক ড্রোন ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপ করা হয়। লেজারনির্ভর লক্ষ্যনির্ধারণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
বিবিসির এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে মোট নয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে অচল করে দেওয়া হয়েছে।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, একই সময়ে নির্দেশনা মেনে চলা ১৩৫টি জাহাজকে বিকল্প রুটে পাঠানো হয়েছে এবং মানবিক সহায়তাবাহী ৪২টি জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের তেল রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যেই এ নৌ অবরোধ কার্যকর রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।






















