হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধের শর্তে নতুন সমঝোতা
- আপডেট সময় ০৯:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
- / 14
হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধসহ কয়েকটি শর্ত পূরণের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এ সমঝোতার আওতায় আগামী ২২ জুন আবারও বৈঠকে বসবে দুই দেশ। লক্ষ্য থাকবে একটি বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া।
বুধবার (৩ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সব ধরনের হামলা বন্ধ হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি শর্ত বাস্তবায়নের পরই সমঝোতাটি কার্যকর হবে।
এ ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করেছে বলে জানা গেছে, যা এপ্রিল মাসে হওয়া আংশিক যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও লেবাননের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক দুই দেশের সার্বভৌম সরকারই নির্ধারণ করবে। এছাড়া লেবাননের ভবিষ্যৎ কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী বা অন্য কোনো শক্তির প্রভাবে জিম্মি হওয়া উচিত নয় বলেও সব পক্ষ একমত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সমঝোতার অন্যতম শর্ত হিসেবে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদী থেকে ইসরায়েল সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর সদস্যদের অপসারণের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং সেনাবাহিনীর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্য একটি ‘পাইলট জোন’ গঠনে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার (১ জুন) একটি আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর হামলা না চালালে ইসরায়েলও বৈরুতে বড় ধরনের বিমান হামলা থেকে বিরত থাকবে।
তবে নতুন এই সমঝোতা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মাহমুদ কামাতি মঙ্গলবার (২ জুন) বলেন, কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়নি; বরং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়েহর নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত লেবানন-ইসরায়েল আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো হিজবুল্লাহর জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, লেবাননের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশা করছে ওয়াশিংটন।
চলতি সপ্তাহে উভয় পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার কারণে আংশিক যুদ্ধবিরতি চাপের মুখে পড়ে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে দুইজন প্যারামেডিক ছিলেন। তাদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দক্ষিণাঞ্চলের চেহৌর এলাকায় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলেও একটি গাড়িতে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা সীমান্ত অতিক্রম করে আসা একটি ড্রোন ও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের একটি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
নতুন ঘোষণার আগে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছিলেন, উত্তর ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত থাকলে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর দাহিয়েহতে আবারও ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।
সংঘাতের পটভূমিতে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে অন্তত ৩ হাজার ৫১৬ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ইসরায়েলের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেশের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে কার্যকর রয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, সংঘাত চলাকালে সীমান্তের দুই পাশে তাদের ২৬ সেনাসদস্য ও চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।





















