রামিসা হত্যা: আদালতে নেওয়া হয়েছে আসামিদের
- আপডেট সময় ০১:৪৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
- / 73
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয়েছে। আজ রবিবার (২৪ ২৪ মে) এই চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর মামলার চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা দেওয়া হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, আইনি ও তদন্তের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে ইতোমধ্যে অভিযোগপত্রটি চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করার পরপরই দুই আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অপরাধের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন (চার্জ গঠন) করার কথা রয়েছে। এরপর মামলাটি দ্রুততম সময়ে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে। বর্তমানে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আলাদাভাবে বন্দি রাখা হয়েছে।
আজ সকালে এই মামলার শুনানিতে অংশ নিতে রাষ্ট্রপক্ষের নবনিযুক্ত বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জানান, আজই বিজ্ঞ আদালতে মামলার নিখুঁত চার্জশিট দাখিল করা হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশের নিবিড় তদন্তে বেরিয়ে আসে, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে। নৃশংসতার চরম পর্যায়ে হত্যাকাণ্ড আড়াল করার উদ্দেশ্যে রামিসার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই অবস্থান করছিল।
ঘটনার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে এবং ওই দিন সন্ধ্যায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই জঘন্য ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় দুজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নৃশংস ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আজ আদালতে এই মামলার চার্জশিট জমা দিচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।


























