ঢাকা ১১:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা: উপদেষ্টা ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ঢাকায়

হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় আদালতের স্থগিতাদেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:৩৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫
  • / 663

ছবি সংগৃহীত

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, সেটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। বিচারক অ্যালিসন বারোস শুক্রবার এক সংক্ষিপ্ত আদেশে এই স্থগিতাদেশ দেন, যেখানে বলা হয়েছে এই সিদ্ধান্ত প্রায় ৬ হাজার ৮০০ বিদেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

বিচারক জানান, হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজ ডিপার্টমেন্টের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। তাই আদালতের পূর্ণাঙ্গ বিবেচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর করা অনুচিত।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম আদালত থেকে ১ হাজার ৯১১টি মামলার নথি গায়েব

মামলায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই পদক্ষেপ শুধু শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেই লঙ্ঘন করেনি, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থীকে মাত্র একটি চিঠির মাধ্যমে শিক্ষাজীবন থেকে ছেঁটে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার অভিযোগ করে বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত মূলত প্রতিশোধমূলক। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করার প্রচেষ্টা।

এদিকে, হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় চরমপন্থি আন্দোলন ও ইসরাইলবিরোধী মনোভাব দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্ক রয়েছে। তবে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন চীনা শিক্ষার্থীরা। অনেকেই জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশন পুলিশের অভিযানের আশঙ্কায় তারা আতঙ্কে রয়েছেন। কেউ কেউ বিমানের টিকিট কাটার পরও শেষ মুহূর্তে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন।

উল্লেখ্য, এই নিষেধাজ্ঞার আগে থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চাপ বাড়াতে ফেডারেল তহবিল কমাতে শুরু করে। ‘বৈষম্যমূলক ও গভীর সমস্যায় জর্জরিত’ বলে উল্লেখ করে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৫ কোটি ডলারের তহবিল কমিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এই স্থগিতাদেশে হার্ভার্ডের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীও সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

হার্ভার্ডে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় আদালতের স্থগিতাদেশ

আপডেট সময় ১০:৩৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, সেটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। বিচারক অ্যালিসন বারোস শুক্রবার এক সংক্ষিপ্ত আদেশে এই স্থগিতাদেশ দেন, যেখানে বলা হয়েছে এই সিদ্ধান্ত প্রায় ৬ হাজার ৮০০ বিদেশি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

বিচারক জানান, হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজ ডিপার্টমেন্টের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। তাই আদালতের পূর্ণাঙ্গ বিবেচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর করা অনুচিত।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে উল্লাসে মেতে উঠলো সিরিয়ার জনতা

মামলায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই পদক্ষেপ শুধু শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকেই লঙ্ঘন করেনি, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থীকে মাত্র একটি চিঠির মাধ্যমে শিক্ষাজীবন থেকে ছেঁটে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার অভিযোগ করে বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত মূলত প্রতিশোধমূলক। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম, শিক্ষক নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করার প্রচেষ্টা।

এদিকে, হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় চরমপন্থি আন্দোলন ও ইসরাইলবিরোধী মনোভাব দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সম্পর্ক রয়েছে। তবে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে পড়েছেন চীনা শিক্ষার্থীরা। অনেকেই জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশন পুলিশের অভিযানের আশঙ্কায় তারা আতঙ্কে রয়েছেন। কেউ কেউ বিমানের টিকিট কাটার পরও শেষ মুহূর্তে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন।

উল্লেখ্য, এই নিষেধাজ্ঞার আগে থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি চাপ বাড়াতে ফেডারেল তহবিল কমাতে শুরু করে। ‘বৈষম্যমূলক ও গভীর সমস্যায় জর্জরিত’ বলে উল্লেখ করে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৫ কোটি ডলারের তহবিল কমিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এই স্থগিতাদেশে হার্ভার্ডের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীও সাময়িক স্বস্তি পেয়েছেন।