পল্লবীতে শিশু হত্যার ৭ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক দম্পতি গ্রেফতার
- আপডেট সময় ১১:৩৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
- / 137
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এক ভয়াবহ ও রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত স্বামী জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেই দীর্ঘ সময় ধরে ফ্ল্যাটের প্রধান দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন তার স্ত্রী স্বপ্না।
জাকির সুকৌশলে পালিয়ে যাওয়ার পরই কেবল ফ্ল্যাটের দরজা খোলা হয়। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘাতক শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর তার মাথা শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচ থেকে শিশুটির মস্তকবিহীন দেহ এবং শৌচাগারের (বাথরুম) একটি বালতি থেকে তার খণ্ডিত মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের একটি দোকান থেকে বিকাশের টাকা তোলার সময় প্রধান অভিযুক্ত রিকশা মেকানিক জাকির হোসেন এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উল্লেখ্য, জাকিরের বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আগের একটি মামলা রয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, নিহত রামিসার পরিবার ওই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করলেও অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে তাদের উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। ঘটনার দিন সকালে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তার মা পারভীন আক্তার ওই দম্পতির ফ্ল্যাটের দরজার সামনে মেয়ের জুতো (স্যান্ডেল) দেখতে পান।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, রামিসার মা যখন বাইরে থেকে দরজায় কড়া নাড়ছিলেন, ঠিক তখনই ভেতরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটছিল।
অপরাধ গোপন ও মরদেহটি সহজে সরিয়ে ফেলার উদ্দেশ্যেই মূলত ঘাতক শরীর থেকে মাথা খণ্ডবিখণ্ড করেছিল। কিন্তু রামিসার মা দরজায় চলে আসায় এবং বিষয়টি টের পেয়ে যাওয়ায় সে তার মূল পরিকল্পনা শেষ করতে না পেরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—হত্যাকাণ্ডের পূর্বে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ছিল রিক্রুটিং এজেন্সির কর্মী আবদুল হান্নান মোল্লা ও পারভীন আক্তার দম্পতির ছোট মেয়ে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো পল্লবী এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


























