ফিলিস্তিনের স্থানীয় নির্বাচনে আব্বাসপন্থিদের বিশাল জয়: গাজায় দীর্ঘ ২০ বছর পর ভোট
- আপডেট সময় ০২:১৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 23
ফিলিস্তিনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সমর্থিত প্রার্থীরা। অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় সব আসনের পাশাপাশি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেয়েছে আব্বাস অনুগত প্রার্থীরা। গত শনিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
ফলাফল ঘোষণা করতে গিয়ে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফা বলেন, অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের পর গাজায় এটিই ছিল প্রথম কোনো নির্বাচন। একই সাথে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলার পর এটিই ফিলিস্তিনের প্রথম নির্বাচনি প্রক্রিয়া।
গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ শহরে প্রতীকীভাবে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, গাজা যে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এই নির্বাচনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সেই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসনকারী সংগঠন হামাস এবারের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং পশ্চিম তীরে নির্বাচন বয়কট করেছে। তবে বিশ্লেষকদের দাবি, হামাস সমর্থিত প্রার্থীরা ভিন্ন কিছু তালিকায় পরোক্ষভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
নির্বাচনী ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ পার্টি সমর্থিত ‘নাহদাত দেইর আল-বালাহ’ তালিকাটি গাজার ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয়ী হয়েছে। বিপরীতে হামাস সমর্থিত হিসেবে পরিচিত ‘দেইর আল-বালাহ ব্রিংস আস টুগেদার’ তালিকাটি মাত্র ২টিতে জয় পেয়েছে। অবশিষ্ট আসনগুলো বিভিন্ন স্বতন্ত্র ও স্থানীয় গ্রুপগুলোর মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে মাহমুদ আব্বাসের অনুগতরা প্রায় সব আসনেই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে, যার অনেকগুলোতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই ছিল না।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান রামি হামদাল্লাহ জানিয়েছেন, গাজায় ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, যেখানে পশ্চিম তীরে এই হার ছিল ৫৬ শতাংশ। গাজায় ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ না হওয়ার পেছনে ইসরাইলি বিধিনিষেধ, চলমান সামরিক সংঘাত এবং বড় ধরনের মানবিক সংকটকে দায়ী করা হয়েছে। অনেক নির্বাচনি সরঞ্জাম ইসরাইলি বাধার কারণে গাজায় পৌঁছাতে পারেনি এবং বিশাল জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হওয়ার ফলে তারা ভোটদানে অংশ নিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
























