ঢাকা ০২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
এপস্টেইন ইস্যু ও ব্যক্তিগত আক্রমণ: সাক্ষাৎকারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ: মিরপুরের উইকেটে বড় সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ কিউইদের সামনে ফিলিস্তিনের স্থানীয় নির্বাচনে আব্বাসপন্থিদের বিশাল জয়: গাজায় দীর্ঘ ২০ বছর পর ভোট ইনডোর নেটওয়ার্ক সমস্যা সমাধানে তরঙ্গ বরাদ্দ পাচ্ছেন মোবাইল অপারেটররা যশোরে ঐতিহাসিক ‘জিয়া খাল’ পুনঃখনন শুরু: উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেলেন এমপি আমির হামজা মাধবদীতে প্রেমঘটিত বিরোধে যুবককে কুপিয়ে জখম: পাল্টা হামলায় ৪ ঘরে অগ্নিসংযোগ বৃষ্টি দিয়ে সকাল শুরু: ঢাকায় আজ দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস বক্স অফিসে বাজিমাত মাইকেলের বায়োপিক মানহানি মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে মুফতি আমির হামজা

ফিলিস্তিনের স্থানীয় নির্বাচনে আব্বাসপন্থিদের বিশাল জয়: গাজায় দীর্ঘ ২০ বছর পর ভোট

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 17

ছবি সংগৃহীত

 

ফিলিস্তিনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সমর্থিত প্রার্থীরা। অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় সব আসনের পাশাপাশি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেয়েছে আব্বাস অনুগত প্রার্থীরা। গত শনিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

ফলাফল ঘোষণা করতে গিয়ে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফা বলেন, অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের পর গাজায় এটিই ছিল প্রথম কোনো নির্বাচন। একই সাথে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলার পর এটিই ফিলিস্তিনের প্রথম নির্বাচনি প্রক্রিয়া।

আরও পড়ুন  গা/জা/য় মানবিক সাহায্য বন্ধের ঘোষণা, ই*স*রা*য়েলি হামলায় নিহত আরও ১১

গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ শহরে প্রতীকীভাবে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, গাজা যে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এই নির্বাচনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সেই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসনকারী সংগঠন হামাস এবারের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং পশ্চিম তীরে নির্বাচন বয়কট করেছে। তবে বিশ্লেষকদের দাবি, হামাস সমর্থিত প্রার্থীরা ভিন্ন কিছু তালিকায় পরোক্ষভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

নির্বাচনী ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ পার্টি সমর্থিত ‘নাহদাত দেইর আল-বালাহ’ তালিকাটি গাজার ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয়ী হয়েছে। বিপরীতে হামাস সমর্থিত হিসেবে পরিচিত ‘দেইর আল-বালাহ ব্রিংস আস টুগেদার’ তালিকাটি মাত্র ২টিতে জয় পেয়েছে। অবশিষ্ট আসনগুলো বিভিন্ন স্বতন্ত্র ও স্থানীয় গ্রুপগুলোর মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে মাহমুদ আব্বাসের অনুগতরা প্রায় সব আসনেই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে, যার অনেকগুলোতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই ছিল না।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান রামি হামদাল্লাহ জানিয়েছেন, গাজায় ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, যেখানে পশ্চিম তীরে এই হার ছিল ৫৬ শতাংশ। গাজায় ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ না হওয়ার পেছনে ইসরাইলি বিধিনিষেধ, চলমান সামরিক সংঘাত এবং বড় ধরনের মানবিক সংকটকে দায়ী করা হয়েছে। অনেক নির্বাচনি সরঞ্জাম ইসরাইলি বাধার কারণে গাজায় পৌঁছাতে পারেনি এবং বিশাল জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হওয়ার ফলে তারা ভোটদানে অংশ নিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ফিলিস্তিনের স্থানীয় নির্বাচনে আব্বাসপন্থিদের বিশাল জয়: গাজায় দীর্ঘ ২০ বছর পর ভোট

আপডেট সময় ০২:১৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

 

ফিলিস্তিনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সমর্থিত প্রার্থীরা। অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় সব আসনের পাশাপাশি অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পেয়েছে আব্বাস অনুগত প্রার্থীরা। গত শনিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

ফলাফল ঘোষণা করতে গিয়ে ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মুস্তাফা বলেন, অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের পর গাজায় এটিই ছিল প্রথম কোনো নির্বাচন। একই সাথে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলার পর এটিই ফিলিস্তিনের প্রথম নির্বাচনি প্রক্রিয়া।

আরও পড়ুন  ফিলিস্তিন: চলমান সংঘাত ও মানবিক বাস্তবতা

গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ শহরে প্রতীকীভাবে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি, গাজা যে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এই নির্বাচনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সেই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসনকারী সংগঠন হামাস এবারের নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থী দেয়নি এবং পশ্চিম তীরে নির্বাচন বয়কট করেছে। তবে বিশ্লেষকদের দাবি, হামাস সমর্থিত প্রার্থীরা ভিন্ন কিছু তালিকায় পরোক্ষভাবে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

নির্বাচনী ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ পার্টি সমর্থিত ‘নাহদাত দেইর আল-বালাহ’ তালিকাটি গাজার ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয়ী হয়েছে। বিপরীতে হামাস সমর্থিত হিসেবে পরিচিত ‘দেইর আল-বালাহ ব্রিংস আস টুগেদার’ তালিকাটি মাত্র ২টিতে জয় পেয়েছে। অবশিষ্ট আসনগুলো বিভিন্ন স্বতন্ত্র ও স্থানীয় গ্রুপগুলোর মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে মাহমুদ আব্বাসের অনুগতরা প্রায় সব আসনেই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে, যার অনেকগুলোতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই ছিল না।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান রামি হামদাল্লাহ জানিয়েছেন, গাজায় ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, যেখানে পশ্চিম তীরে এই হার ছিল ৫৬ শতাংশ। গাজায় ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ না হওয়ার পেছনে ইসরাইলি বিধিনিষেধ, চলমান সামরিক সংঘাত এবং বড় ধরনের মানবিক সংকটকে দায়ী করা হয়েছে। অনেক নির্বাচনি সরঞ্জাম ইসরাইলি বাধার কারণে গাজায় পৌঁছাতে পারেনি এবং বিশাল জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হওয়ার ফলে তারা ভোটদানে অংশ নিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।