ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

আধুনিক কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ রোডম্যাপ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 100

ছবি: সংগৃহীত

দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনে কৃষির ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে আধুনিক প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও জমির পরিমাণ হ্রাসের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা ‘কৃষক কার্ড’ চালু করেছি।” উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল এই কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার-বীজ, সরকারি ভর্তুকি, স্বল্প সুদে ঋণ, কৃষি বিমা এবং ফসলের রোগ-বালাই দমনে ডিজিটাল পরামর্শসহ মোট ১০টি সেবা সরাসরি পাবেন।

সংসদকে প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিকে আধুনিক করতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করবে। কৃষকদের জন্য ট্রাক্টর ও হারভেস্টারের মতো আধুনিক যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে। এছাড়া জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী ফসল নির্ধারণ করা হবে। বিশেষ করে সিলেট ও চরাঞ্চলের পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন  সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা জুলাইয়ে: নির্বাচন কমিশনার

সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল ও আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজ ও সবজি সংরক্ষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। গবেষণার ক্ষেত্রে বারি, ব্রি ও বিনা-র মাধ্যমে অধিক ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ ও ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সেচ কাজে খরচ ও পানির অপচয় কমাতে প্রিপেইড মিটার এবং ‘খামারি অ্যাপ’ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। এতে দেশের প্রায় ২৫ লাখ ২২ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আধুনিক কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ রোডম্যাপ

আপডেট সময় ০৫:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

দেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনে কৃষির ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে আধুনিক প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও জমির পরিমাণ হ্রাসের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা ‘কৃষক কার্ড’ চালু করেছি।” উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল এই কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার-বীজ, সরকারি ভর্তুকি, স্বল্প সুদে ঋণ, কৃষি বিমা এবং ফসলের রোগ-বালাই দমনে ডিজিটাল পরামর্শসহ মোট ১০টি সেবা সরাসরি পাবেন।

সংসদকে প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিকে আধুনিক করতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি করবে। কৃষকদের জন্য ট্রাক্টর ও হারভেস্টারের মতো আধুনিক যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে। এছাড়া জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মাটির গুণাগুণ অনুযায়ী ফসল নির্ধারণ করা হবে। বিশেষ করে সিলেট ও চরাঞ্চলের পতিত জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন  জলবায়ু সংকটে একসঙ্গে কাজের আহ্বান জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল ও আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজ ও সবজি সংরক্ষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। গবেষণার ক্ষেত্রে বারি, ব্রি ও বিনা-র মাধ্যমে অধিক ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ ও ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সেচ কাজে খরচ ও পানির অপচয় কমাতে প্রিপেইড মিটার এবং ‘খামারি অ্যাপ’ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে। এতে দেশের প্রায় ২৫ লাখ ২২ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।