ঢাকা ০৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বিশ্বকাপের আবহে শোক, আর্জেন্টাইন ফুটবলার লাউতারোর মৃত্যু বিসিএস ভাইভা ১০০ নম্বরই থাকছে, জানাল সরকার সংসদে মামুনুল হক ইস্যু: এমপির পর স্পিকারের বক্তব্যও এক্সপাঞ্জ কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে নাশকতার চেষ্টা করলে ছাড় নয়: র‍্যাব এক প্ল্যাটফর্মেই মিলবে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সেবা: বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম প্রত্যাহার, জনপ্রশাসনে নতুন দায়িত্ব দুর্নীতির অভিযোগে বিচারের মুখে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী সম্মান বাঁচানোর ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি যাচাইয়ে জুরিখে ইরানি প্রতিনিধি দল

১৭ দেশে অস্ত্র বিক্রির অনুমতি দিল জাপান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 104

ছবি সংগৃহীত

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী প্রতিরক্ষা নীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা সামরিক সরঞ্জামের ওপর থেকে ‘প্রাণঘাতী’ অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন থেকে বিশ্ববাজারে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে।

নতুন এই নীতিমালার আওতায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে ‘অস্ত্র’ ও ‘অ-অস্ত্র’—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এতদিন যুদ্ধজাহাজ, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো সরঞ্জাম রপ্তানিতে যে কঠোর বিধিনিষেধ ছিল, তা শিথিল করা হয়েছে। তবে এই রপ্তানি সুবিধা কেবল জাপানের সাথে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি স্থানান্তর চুক্তি থাকা ১৭টি বন্ধুরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে। এছাড়া, প্রতিটি রপ্তানির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা থাকবে জাপানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের হাতে।

আরও পড়ুন  রোহিঙ্গা সংকটে একসাথে কাজের অঙ্গীকার বাংলাদেশ ও জাপানের

জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা জানান, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মিত্র দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “শান্তিপূর্ণ জাতি হিসেবে জাপানের প্রতিশ্রুতি অটুট রেখেই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব মোকাবিলা করতেই টোকিও এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া, দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। সরকার ২০২৬ অর্থবছরের ‘অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ কর্মসূচির আওতায় রেকর্ড ১৮.১ বিলিয়ন ইয়েন বাজেট অনুমোদন করেছে, যা দিয়ে সুবিধাভোগী দেশের সংখ্যা ১২-তে উন্নীত করা হবে।

জাপান সরকারের দাবি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বেইজিং এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যা দিলেও টোকিও একে সময়ের প্রয়োজনে কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

১৭ দেশে অস্ত্র বিক্রির অনুমতি দিল জাপান

আপডেট সময় ০৬:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী প্রতিরক্ষা নীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা সামরিক সরঞ্জামের ওপর থেকে ‘প্রাণঘাতী’ অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন থেকে বিশ্ববাজারে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে।

নতুন এই নীতিমালার আওতায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে ‘অস্ত্র’ ও ‘অ-অস্ত্র’—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এতদিন যুদ্ধজাহাজ, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো সরঞ্জাম রপ্তানিতে যে কঠোর বিধিনিষেধ ছিল, তা শিথিল করা হয়েছে। তবে এই রপ্তানি সুবিধা কেবল জাপানের সাথে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি স্থানান্তর চুক্তি থাকা ১৭টি বন্ধুরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে। এছাড়া, প্রতিটি রপ্তানির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা থাকবে জাপানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের হাতে।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে চীন-জাপান

জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা জানান, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মিত্র দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “শান্তিপূর্ণ জাতি হিসেবে জাপানের প্রতিশ্রুতি অটুট রেখেই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব মোকাবিলা করতেই টোকিও এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া, দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। সরকার ২০২৬ অর্থবছরের ‘অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ কর্মসূচির আওতায় রেকর্ড ১৮.১ বিলিয়ন ইয়েন বাজেট অনুমোদন করেছে, যা দিয়ে সুবিধাভোগী দেশের সংখ্যা ১২-তে উন্নীত করা হবে।

জাপান সরকারের দাবি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বেইজিং এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যা দিলেও টোকিও একে সময়ের প্রয়োজনে কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।