ঢাকা ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ইতিহাস, সংঘাত আর পুনর্গঠনের গল্প

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 126

ছবি সংগৃহীত

 

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। এর আয়তন প্রায় ৫১ হাজার বর্গকিলোমিটার। ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর সঙ্গে এর সীমান্ত রয়েছে। রাজধানী সারায়েভো—যা ইতিহাস ও সংস্কৃতির মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত।

ইতিহাসের দিক থেকে দেশটি বহু সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল, বিশেষ করে অটোমান সাম্রাজ্য এবং অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান শাসন উল্লেখযোগ্য। ২০শ শতকের শেষে যুগোস্লাভিয়ার পতনের পর স্বাধীনতা লাভ করে। তবে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ভয়াবহ বসনিয়ান যুদ্ধ দেশটিকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আরও পড়ুন  গাজা পুনর্গঠন: মিশরের পাঁচ বছরের বৃহৎ উদ্যোগ

রাজনৈতিকভাবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা একটি জটিল রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়, যেখানে বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা হয়। এই কাঠামো শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনেক সময় ধীর হয়ে যায়।

দেশটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য পরিচিত। পাহাড়, নদী ও সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। নাগরিক জীবনে উন্নয়ন চলমান থাকলেও বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান।

ধর্মীয়ভাবে দেশটি বৈচিত্র্যময়। মুসলিম, অর্থোডক্স খ্রিস্টান এবং ক্যাথলিক—এই তিনটি প্রধান ধর্মীয় গোষ্ঠী এখানে বসবাস করে। মুসলিম জনগোষ্ঠী দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে স্টারি মোস্ট সেতুটি তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এছাড়া সারায়েভোর পুরোনো শহর, পাহাড়ি এলাকা ও নদীপথ পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

সব মিলিয়ে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এমন একটি দেশ যেখানে ইতিহাসের গভীরতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মিলিয়ে এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ইতিহাস, সংঘাত আর পুনর্গঠনের গল্প

আপডেট সময় ০৭:৩৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। এর আয়তন প্রায় ৫১ হাজার বর্গকিলোমিটার। ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর সঙ্গে এর সীমান্ত রয়েছে। রাজধানী সারায়েভো—যা ইতিহাস ও সংস্কৃতির মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত।

ইতিহাসের দিক থেকে দেশটি বহু সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল, বিশেষ করে অটোমান সাম্রাজ্য এবং অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান শাসন উল্লেখযোগ্য। ২০শ শতকের শেষে যুগোস্লাভিয়ার পতনের পর স্বাধীনতা লাভ করে। তবে ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ভয়াবহ বসনিয়ান যুদ্ধ দেশটিকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্য পরিকল্পনা: চীনের সঙ্গে করবেন একতরফা বাণিজ্য পুনর্গঠন

রাজনৈতিকভাবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা একটি জটিল রাষ্ট্রব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়, যেখানে বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা হয়। এই কাঠামো শান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনেক সময় ধীর হয়ে যায়।

দেশটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য পরিচিত। পাহাড়, নদী ও সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশ ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। নাগরিক জীবনে উন্নয়ন চলমান থাকলেও বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান।

ধর্মীয়ভাবে দেশটি বৈচিত্র্যময়। মুসলিম, অর্থোডক্স খ্রিস্টান এবং ক্যাথলিক—এই তিনটি প্রধান ধর্মীয় গোষ্ঠী এখানে বসবাস করে। মুসলিম জনগোষ্ঠী দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে স্টারি মোস্ট সেতুটি তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এছাড়া সারায়েভোর পুরোনো শহর, পাহাড়ি এলাকা ও নদীপথ পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

সব মিলিয়ে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এমন একটি দেশ যেখানে ইতিহাসের গভীরতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মিলিয়ে এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।