ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা: উপদেষ্টা ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ঢাকায়

১৭ দেশে অস্ত্র বিক্রির অনুমতি দিল জাপান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 175

ছবি সংগৃহীত

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী প্রতিরক্ষা নীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা সামরিক সরঞ্জামের ওপর থেকে ‘প্রাণঘাতী’ অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন থেকে বিশ্ববাজারে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে।

নতুন এই নীতিমালার আওতায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে ‘অস্ত্র’ ও ‘অ-অস্ত্র’—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এতদিন যুদ্ধজাহাজ, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো সরঞ্জাম রপ্তানিতে যে কঠোর বিধিনিষেধ ছিল, তা শিথিল করা হয়েছে। তবে এই রপ্তানি সুবিধা কেবল জাপানের সাথে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি স্থানান্তর চুক্তি থাকা ১৭টি বন্ধুরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে। এছাড়া, প্রতিটি রপ্তানির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা থাকবে জাপানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের হাতে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশকে ১.০৬৩ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে জাপান: রেলপথ উন্নয়নে বড় সহায়তা

জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা জানান, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মিত্র দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “শান্তিপূর্ণ জাতি হিসেবে জাপানের প্রতিশ্রুতি অটুট রেখেই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব মোকাবিলা করতেই টোকিও এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া, দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। সরকার ২০২৬ অর্থবছরের ‘অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ কর্মসূচির আওতায় রেকর্ড ১৮.১ বিলিয়ন ইয়েন বাজেট অনুমোদন করেছে, যা দিয়ে সুবিধাভোগী দেশের সংখ্যা ১২-তে উন্নীত করা হবে।

জাপান সরকারের দাবি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বেইজিং এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যা দিলেও টোকিও একে সময়ের প্রয়োজনে কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

১৭ দেশে অস্ত্র বিক্রির অনুমতি দিল জাপান

আপডেট সময় ০৬:৩৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘদিনের শান্তিবাদী প্রতিরক্ষা নীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা সামরিক সরঞ্জামের ওপর থেকে ‘প্রাণঘাতী’ অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন থেকে বিশ্ববাজারে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে।

নতুন এই নীতিমালার আওতায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে ‘অস্ত্র’ ও ‘অ-অস্ত্র’—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এতদিন যুদ্ধজাহাজ, ট্যাংক ও ক্ষেপণাস্ত্রের মতো সরঞ্জাম রপ্তানিতে যে কঠোর বিধিনিষেধ ছিল, তা শিথিল করা হয়েছে। তবে এই রপ্তানি সুবিধা কেবল জাপানের সাথে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি স্থানান্তর চুক্তি থাকা ১৭টি বন্ধুরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে। এছাড়া, প্রতিটি রপ্তানির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত অনুমোদনের ক্ষমতা থাকবে জাপানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের হাতে।

আরও পড়ুন  সংসদ ভেঙে দিলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি মিনোরু কিহারা জানান, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই মিত্র দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “শান্তিপূর্ণ জাতি হিসেবে জাপানের প্রতিশ্রুতি অটুট রেখেই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রভাব মোকাবিলা করতেই টোকিও এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া, দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম উদ্দেশ্য। সরকার ২০২৬ অর্থবছরের ‘অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ কর্মসূচির আওতায় রেকর্ড ১৮.১ বিলিয়ন ইয়েন বাজেট অনুমোদন করেছে, যা দিয়ে সুবিধাভোগী দেশের সংখ্যা ১২-তে উন্নীত করা হবে।

জাপান সরকারের দাবি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বেইজিং এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যা দিলেও টোকিও একে সময়ের প্রয়োজনে কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।