পোপের সঙ্গে দ্বন্দ্বের আবহেই বাইবেল পাঠের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
- আপডেট সময় ০৬:৩১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 19
ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও’র সঙ্গে প্রকাশ্য মতবিরোধ এবং এআই (এআই) ছবি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে ‘বাইবেল পাঠ’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২১ এপ্রিল ‘আমেরিকা রিডস দ্য বাইবেল’ শীর্ষক আয়োজনে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি বাইবেলের নির্দিষ্ট একটি অংশ পাঠ করবেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় (ইস্টার্ন টাইম) ট্রাম্প বাইবেলের ‘২ ক্রনিকলস ৭:১১-২২’ অংশটি পাঠ করবেন। এর মধ্যে ১৪ নম্বর আয়াতটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, যেখানে ক্ষমা ও বিনম্র প্রার্থনার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ লাভের কথা বলা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে জনসমর্থন টানতেই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে সামনে এল যখন পোপ লিও’র সঙ্গে তার সম্পর্ক চরম তিক্ততায় পৌঁছেছে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছর নীরব থাকলেও সম্প্রতি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও ইসরায়েলি আগ্রাসন নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন পোপ। ক্যামেরুনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বিশ্বজুড়ে চলমান ধ্বংসযজ্ঞের জন্য সরাসরি ‘মুষ্টিমেয় স্বৈরশাসক’ ও অস্ত্রের রাজনীতিকে দায়ী করেন।
পোপ লিও সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক বা সামরিক স্বার্থ উদ্ধারে ধর্মের ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি পবিত্রতাকে অপবিত্র করার শামিল। মানবিক উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবর্তে যুদ্ধের পেছনে বিপুল সম্পদ ব্যয়কে তিনি ‘উল্টে যাওয়া বিশ্ব’ হিসেবে অভিহিত করেন।
পোপের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়ে বলেছেন, “আমরা এমন পোপ পছন্দ করি না যিনি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে এ ধরনের কথা বলেন।” জবাবে পোপও পাল্টা বার্তায় জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে মোটেও ‘ভয়’ পান না। দুই নেতার এই পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধ বর্তমানে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
এর আগে নিজেকে যিশু খ্রিস্টের আদলে উপস্থাপন করা একটি এআই জেনারেটেড ছবি পোস্ট করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। পরে ছবিটি সরিয়ে নিয়ে তিনি দাবি করেন, সেটিতে তাকে একজন ‘চিকিৎসক’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যিনি মানুষকে সুস্থ করছেন। ধর্মীয় প্রতীক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন মিশ্রণ সাধারণ খ্রিস্টান সমাজ ও ভ্যাটিকানের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
























