ফুয়েল পাসে বাড়ল তেলের বরাদ্দ, ফুরায়নি অপেক্ষার প্রহর
- আপডেট সময় ০৬:৫৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 16
৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে তেল, ডিজিটাল পাসেও কাটছে না ভোগান্তি
রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংগ্রহের ভোগান্তি যেন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করা হলেও দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মেলেনি গ্রাহকদের। তবে তেলের কোটা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় চালকদের মধ্যে সামান্য স্বস্তি ফিরলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে ক্ষোভ কমেনি।
সোমবার সরেজমিনে রাজধানীর আসাদগেটের সোনার বাংলা ফুয়েল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে শত শত বাইকার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
পেশায় পাঠাও চালক রুবেল মিয়া সকাল ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর ২টার দিকে তেলের দেখা পেয়েছেন। ৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি জানান, ফুয়েল পাস থাকায় আগের চেয়ে বেশি তেল মিলছে ঠিকই, কিন্তু লাইনের দৈর্ঘ্য কমেনি। এখানে পাসধারীদের জন্য আলাদা লাইন থাকলেও সেখানেও গ্রাহকদের ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের চিত্র আরও কিছুটা ভিন্ন। সেখানে পাসধারী ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য আলাদা কোনো সারি নেই। ফলে সবাইকে একই লাইনে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। ট্রাস্টে সকাল ৭টা থেকে দাঁড়িয়ে দুপুর সাড়ে ১২টায় তেল পেয়েছেন মনির হোসেন নামের এক চালক। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দিনের অর্ধেক সময় যদি তেল নিতেই চলে যায়, তবে আয় করব কখন? তবে এই স্টেশনে ভালো দিক হলো, ফুয়েল পাসধারীরা এখন ১,২০০ টাকার তেল পাচ্ছেন, যা আগে ছিল মাত্র ৬০০ টাকা।
এদিকে কারিগরি উন্নয়নের কথা বলে গত শনিবার থেকে ফুয়েল পাসের ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা রোববার রাত থেকে পুনরায় চালু হয়েছে। ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় নতুন করে কেউ রেজিস্ট্রেশন করতে না পারায় ভোগান্তি আরও বেড়েছিল। কর্তৃপক্ষের দাবি, সাইটটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে এবং প্রচুর চাপের কারণে কিছুটা ধীরগতিতে কাজ করছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আইসিটি শাখার প্রকৌশলী মো. রাজিবুল হক রাজিব জানিয়েছেন, বিআরটিএ-র ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে হওয়া এবং নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে সাইটে বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তবে যান্ত্রিক এই সমাধানের ভিড়ে সাধারণ চালকদের প্রশ্ন একটাই—কবে নাগাদ রাজপথের এই দীর্ঘ সারি থেকে তারা মুক্তি পাবেন।
























