পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে মানুষের নতুন রেকর্ড
- আপডেট সময় ০১:০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 18
মহাকাশে মানুষের নতুন রেকর্ড: পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে নভোচারীরা
মহাকাশ জয়ের নতুন এক স্বর্ণালি অধ্যায় রচনা করে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে পৌঁছানোর ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন নাসার আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযানের চার নভোচারী। গত সোমবার যখন তারা ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে করে চাঁদের অন্ধকার বা পেছনের দিক ভ্রমণ করছিলেন, তখন পৃথিবী থেকে তাদের দূরত্ব ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার (প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল)।
মানুষের ইতিহাসে এর আগে আর কোন সাধারণ মানুষ পৃথিবী থেকে এত দূরে ভ্রমণ করেননি। এর মাধ্যমে ভেঙে গেছে ১৯৭০ সালে অ্যাপোলো-১৩ মিশনের নভোচারীদের গড়া ৫৬ বছরের পুরনো রেকর্ডটি, যারা পৃথিবী থেকে ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার দূরে গিয়েছিলেন।
অভিযানের এই বিশেষ পর্যায়ে নভোচারীরা যখন চাঁদের একদম পেছনের অংশে অবস্থান করছিলেন, তখন প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পুনরায় যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার পর মিশনের একমাত্র নারী নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন যে, পৃথিবী থেকে আবার শব্দ শুনতে পাওয়াটা ছিল দারুণ আনন্দের।
একইসঙ্গে তারা সেখান থেকে একটি অপার্থিব পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন, যা তাদের কাছে কল্পবিজ্ঞানের মতো মনে হয়েছে। এই অভিযানে নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচের সঙ্গে রয়েছেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন।
১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে পা রাখল। যদিও আর্টেমিস-২ মিশনের এই চার নভোচারী সরাসরি চাঁদে অবতরণ করবেন না, তবুও ১০ দিনের এই চন্দ্র প্রদক্ষিণ অভিযানটি মহাকাশ গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১ এপ্রিল কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শুরু হওয়া এই পরীক্ষামূলক যাত্রার মূল লক্ষ্য হলো চাঁদে মানুষের নিয়মিত যাতায়াত নিশ্চিত করা। নাসা আশা করছে, এই অভিযানের সফলতার পথ ধরে ২০২৮ সালের মধ্যেই চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে পুনরায় নভোচারী অবতরণ করানো সম্ভব হবে।






















