দুবাই বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা ও অগ্নিকাণ্ড: ফ্লাইট চলাচল স্থগিত ও রুট পরিবর্তন
- আপডেট সময় ০৩:৪০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
- / 17
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি ড্রোন হামলার পর জ্বালানি ট্যাংকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই ভ্রমণ কেন্দ্রে এটি তৃতীয়বারের মতো হামলার ঘটনা। দুবাইয়ের গণমাধ্যম দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, ড্রোনটি একটি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত হানলে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে, তবে তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই হামলার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমিরাত এয়ারলাইন দুবাইয়ের সাথে তাদের সব ফ্লাইট চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে এবং বেশ কিছু উড়োজাহাজকে দুবাইয়ের দক্ষিণে অবস্থিত আল মাকতুম বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার এই সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যার ফলে বৈশ্বিক বিমান পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ইরান দাবি করছে যে, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। আরব আমিরাতের সাথে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্কের কারণে এই দেশটি বর্তমানে ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যস্থলে পরিণত হয়েছে।
সোমবারের এই হামলার পর পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরমুখী প্রধান সড়ক ও টানেলগুলোতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়, যা সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত কয়েক সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুবাই বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনায় বারবার আঘাত আসায় জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটগুলোর সময়সূচি ও পথ প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ এখনো দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পুনরায় চালুর সুনির্দিষ্ট কোনো সময় ঘোষণা করেনি, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
























