ভানুয়াতু: আগ্নেয় দ্বীপ, সংস্কৃতি ও সংগ্রামের দেশ
- আপডেট সময় ০৭:২৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 17
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত ভানুয়াতু ওশেনিয়া মহাদেশের মেলানেশিয়া অঞ্চলের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। প্রায় ৮০টির বেশি দ্বীপ নিয়ে দেশটি গঠিত। রাজধানী পোর্ট ভিলা, যা এফাতে দ্বীপে অবস্থিত।
ইতিহাসের শুরুতে, হাজার বছর আগে মেলানেশীয় জনগোষ্ঠী এখানে বসতি স্থাপন করে। ১৭শ শতকে ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা এ অঞ্চলে আসে। পরে ফ্রান্স ও ব্রিটেন যৌথভাবে এই অঞ্চল শাসন করে, যা “নিউ হেব্রিডস” নামে পরিচিত ছিল। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের পর ১৯৮০ সালে ভানুয়াতু স্বাধীনতা লাভ করে।
রাজনৈতিকভাবে, ভানুয়াতু একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী সরকার পরিচালনা করেন। দেশটি ছোট হলেও আন্তর্জাতিক জলবায়ু ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির বিষয়ে বৈশ্বিক সচেতনতা তৈরিতে।
নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে, তবে অনেক দ্বীপে সেবার মান সীমিত। অর্থনীতি মূলত কৃষি, মৎস্য, পর্যটন এবং বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির ঝুঁকি। এছাড়া অবকাঠামোর ঘাটতি উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ধর্মীয়ভাবে, অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান এবং ধর্ম সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে, ভানুয়াতু তার প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, নীল লেগুন, প্রবাল প্রাচীর এবং ঐতিহ্যবাহী গ্রাম সংস্কৃতি পর্যটকদের আকর্ষণ করে। বিশেষ করে তান্না দ্বীপের ইয়াসুর আগ্নেয়গিরি বিশ্বের সহজে দেখা যায় এমন সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর একটি। ডাইভিং, স্নরকেলিং ও সাংস্কৃতিক ভ্রমণ এখানে জনপ্রিয়।
সব মিলিয়ে, ভানুয়াতু একটি দেশ যেখানে প্রকৃতির শক্তি ও মানুষের ঐতিহ্য একসঙ্গে বিদ্যমান। নানা প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জের মাঝেও দেশটি নিজের সংস্কৃতি ও স্বাধীন পরিচয় ধরে রেখে এগিয়ে চলেছে।
























