০২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চরমোনাইয়ের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে জামায়াত জোট আইসিসি ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ, ভারতীয় মিডিয়ার দাবি একটি দল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ খুঁজছে: সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টারের সফল প্রথম উড্ডয়ন

জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 39

ছবি সংগৃহীত

 

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণসংক্রান্ত প্রস্তুতি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে ছিলেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব রাবাব ফাতিমা।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে এ মুহূর্তে সফরটি স্থগিত রাখা হয়েছে। সফরের নতুন কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, আগামী মাসে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সফর করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র অনুযায়ী, গত নভেম্বরে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, এলডিসি থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব এবং নির্বিঘ্ন উত্তরণ কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছ থেকে তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করেছে জাতিসংঘ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে একটি চূড়ান্ত প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, ঢাকা সফর স্থগিত হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতিসংঘ ওই মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাংলাদেশে পাঠাবে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান গত বৃহস্পতিবার বলেন, “জাতিসংঘ এ দফায় না এলেও পরে সফর করবে। তবে মূল্যায়ন প্রতিবেদন আমরা সময়মতো পেয়ে যাব। এরপর পরবর্তী প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোবে।”

এদিকে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের আশঙ্কা, উত্তরণ ঘটলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় বাংলাদেশ যে শুল্কমুক্ত ও বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে, তা আর থাকবে না। এর ফলে দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এলডিসি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশের জন্য অনুকূল নয়। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ সদস্য দেশের মধ্যে কোনো একটি দেশ বিরোধিতা করলে সেটিকে সম্মিলিত বিরোধিতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, আইসিসি বাংলাদেশসহ মোট ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠন গত ২৪ আগস্ট একযোগে সংবাদ সম্মেলন করে এলডিসি থেকে উত্তরণ অন্তত কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। সরকার ইতোমধ্যে এ দাবির কথা জাতিসংঘকে অবহিত করেছে। তবে উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। অন্যদিকে লাওস ও নেপাল এখনো উত্তরণ পেছানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে। এর আগে ২০১৮ সালে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও জলবায়ু ভঙ্গুরতা সূচক—এই তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়ে দেশটি উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে। পরবর্তী পর্যালোচনার পর ২০২১ সালে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের উত্তরণের সুপারিশ করে।

বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে অন্তত তিন বছর উত্তরণ পেছানো প্রয়োজন। তার মতে, কারিগরি শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে যেমন ব্যবসায়ীদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তেমনি সরকারের ঘাটতিও কম নয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যে স্তরে যেতে চায়, সেখানে অন্যান্য দেশের ব্যাংকঋণের সুদহার ৫ শতাংশের নিচে, অথচ দেশে তা প্রায় ১৫ শতাংশ। অন্য দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হলেও এখানে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পাশাপাশি সুশাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নেও ঘাটতি আছে। তার প্রশ্ন—এসব সমস্যা সমাধান না করে কেবল নামমাত্র এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে দেশের প্রকৃত লাভ কোথায়?

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত

আপডেট সময় ০৩:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

 

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণসংক্রান্ত প্রস্তুতি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে ছিলেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব রাবাব ফাতিমা।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে এ মুহূর্তে সফরটি স্থগিত রাখা হয়েছে। সফরের নতুন কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, আগামী মাসে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সফর করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র অনুযায়ী, গত নভেম্বরে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, এলডিসি থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব এবং নির্বিঘ্ন উত্তরণ কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছ থেকে তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করেছে জাতিসংঘ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে একটি চূড়ান্ত প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, ঢাকা সফর স্থগিত হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতিসংঘ ওই মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাংলাদেশে পাঠাবে।

এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান গত বৃহস্পতিবার বলেন, “জাতিসংঘ এ দফায় না এলেও পরে সফর করবে। তবে মূল্যায়ন প্রতিবেদন আমরা সময়মতো পেয়ে যাব। এরপর পরবর্তী প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোবে।”

এদিকে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের আশঙ্কা, উত্তরণ ঘটলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় বাংলাদেশ যে শুল্কমুক্ত ও বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে আসছে, তা আর থাকবে না। এর ফলে দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এলডিসি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশের জন্য অনুকূল নয়। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ সদস্য দেশের মধ্যে কোনো একটি দেশ বিরোধিতা করলে সেটিকে সম্মিলিত বিরোধিতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, আইসিসি বাংলাদেশসহ মোট ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠন গত ২৪ আগস্ট একযোগে সংবাদ সম্মেলন করে এলডিসি থেকে উত্তরণ অন্তত কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। সরকার ইতোমধ্যে এ দাবির কথা জাতিসংঘকে অবহিত করেছে। তবে উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। অন্যদিকে লাওস ও নেপাল এখনো উত্তরণ পেছানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাবে। এর আগে ২০১৮ সালে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও জলবায়ু ভঙ্গুরতা সূচক—এই তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়ে দেশটি উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে। পরবর্তী পর্যালোচনার পর ২০২১ সালে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের উত্তরণের সুপারিশ করে।

বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে অন্তত তিন বছর উত্তরণ পেছানো প্রয়োজন। তার মতে, কারিগরি শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে যেমন ব্যবসায়ীদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তেমনি সরকারের ঘাটতিও কম নয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যে স্তরে যেতে চায়, সেখানে অন্যান্য দেশের ব্যাংকঋণের সুদহার ৫ শতাংশের নিচে, অথচ দেশে তা প্রায় ১৫ শতাংশ। অন্য দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হলেও এখানে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পাশাপাশি সুশাসন ও অবকাঠামো উন্নয়নেও ঘাটতি আছে। তার প্রশ্ন—এসব সমস্যা সমাধান না করে কেবল নামমাত্র এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে দেশের প্রকৃত লাভ কোথায়?