ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে: ডিএমপি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • / 690

ছবি সংগৃহীত

 

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক নয়, এটি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের ফল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সোহাগ বিগত সরকারের সময়ে সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ভাগ্নে পিল্লু কমিশনারের ছত্রছায়ায় বিদ্যুতের চোরাই তারের ব্যবসা চালাতেন। ৫ আগস্টের পর সেই ব্যবসায় শেয়ার নিতে চেয়েছিল তারই পরিচিত কয়েকজন। এ নিয়েই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যা থেকে সংঘবদ্ধ মব গঠন করে তাকে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন  প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সচিবালয় ও আশপাশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা ডিএমপির

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পটুয়াখালী থেকে রেজওয়ান নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, এজাহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, নিহত সোহাগের সাবেক স্ত্রী লাকী আক্তার থানায় এসে মামলা করতে আগ্রহ দেখান। কিছুক্ষণ পর তার সৎ ভাই রনিও থানায় আসেন। তারা দুজন মিলে ২৩ জনকে আসামি করে একটি খসড়া এজাহার তৈরি করেন। পরে নিহতের আপন বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম থানায় এসে পাঁচজনের নাম বাদ দিয়ে নতুন একজনকে যুক্ত করে মোট ১৯ জনকে আসামি করে এজাহার দাখিল করেন। সেই এজাহারের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানায় মামলা রুজু করা হয়, যার নম্বর-৭।

তিনি বলেন, কোনো ঘটনা সম্পর্কে এজাহার একটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী মাত্র। তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, ৯ জুলাই সন্ধ্যায় ঘটনার সময় ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে চকবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সরোয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। সেখানে তিনি দেখেন, অভিযুক্তরা ‘চাঁদাবাজদের জায়গা নাই, ব্যবসায়ীদের ভয় নাই’ এমন স্লোগানে মব গঠন করছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি মাহমুদুল হাসান মহিন ও রবিন নামে দুজনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুলাই মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্যে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথা থেঁতলে সোহাগকে হত্যা করা হয়। পরদিন তার বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

মিটফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে: ডিএমপি

আপডেট সময় ০৪:৪২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

 

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক নয়, এটি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের ফল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

বুধবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সোহাগ বিগত সরকারের সময়ে সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ভাগ্নে পিল্লু কমিশনারের ছত্রছায়ায় বিদ্যুতের চোরাই তারের ব্যবসা চালাতেন। ৫ আগস্টের পর সেই ব্যবসায় শেয়ার নিতে চেয়েছিল তারই পরিচিত কয়েকজন। এ নিয়েই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যা থেকে সংঘবদ্ধ মব গঠন করে তাকে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন  শিক্ষার্থীদের ট্রাফিক সচেতনতায় ডিএমপির বিশেষ কর্মসূচি

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পটুয়াখালী থেকে রেজওয়ান নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, এজাহার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, নিহত সোহাগের সাবেক স্ত্রী লাকী আক্তার থানায় এসে মামলা করতে আগ্রহ দেখান। কিছুক্ষণ পর তার সৎ ভাই রনিও থানায় আসেন। তারা দুজন মিলে ২৩ জনকে আসামি করে একটি খসড়া এজাহার তৈরি করেন। পরে নিহতের আপন বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম থানায় এসে পাঁচজনের নাম বাদ দিয়ে নতুন একজনকে যুক্ত করে মোট ১৯ জনকে আসামি করে এজাহার দাখিল করেন। সেই এজাহারের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানায় মামলা রুজু করা হয়, যার নম্বর-৭।

তিনি বলেন, কোনো ঘটনা সম্পর্কে এজাহার একটি প্রাথমিক তথ্য বিবরণী মাত্র। তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, ৯ জুলাই সন্ধ্যায় ঘটনার সময় ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে চকবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সরোয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। সেখানে তিনি দেখেন, অভিযুক্তরা ‘চাঁদাবাজদের জায়গা নাই, ব্যবসায়ীদের ভয় নাই’ এমন স্লোগানে মব গঠন করছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি মাহমুদুল হাসান মহিন ও রবিন নামে দুজনকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুলাই মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্যে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথা থেঁতলে সোহাগকে হত্যা করা হয়। পরদিন তার বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।