ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসির রায় দিয়েও মুখ বন্ধ করতে পারেনি, আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন’: এটিএম আজহারুল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:২৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
  • / 477

ছবি সংগৃহীত

 

দীর্ঘ ১৪ বছর কারাভোগ শেষে নিজ এলাকায় ফিরে এসে এক আবেগঘন মুহূর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ও ঢাকার সাবেক মহানগর আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, “মিথ্যা মামলায় ফাঁসির রায় দিয়েও আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের মুখ বন্ধ করতে পারেনি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।”

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দুপুরে রংপুরের তারাগঞ্জে শুকরানা সমাবেশ ও ঈদ পুনর্মিলনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  মিথ্যা মামলায় হয়রানি না করার নির্দেশ পুলিশকে দেওয়া আছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

তিনি বলেন, “এখন আমি মুক্ত, এবং সত্যের পক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। আমি জীবনের বাকি সময়টা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ব্যয় করতে চাই।”

এটিএম আজহার আরও বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে এদেশে ফ্যাসিস্ট শাসন চলেছে, যার মূল্য পুরো জাতিকে দিতে হয়েছে। ৫ আগস্ট আমাদের মুক্তির দিন ছিল। তবে ষড়যন্ত্র থেমে নেই। কিছু অপশক্তি এখনো শকুনের মতো ওঁৎ পেতে আছে। এদের রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

তিনি অতীতের বিচারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “অনেক আলেম-ওলামাকে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল অন্যায়। আমি দাবি জানাই, এসব মিথ্যা রায় ও সাক্ষ্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক।”

তিনি বলেন, “আমাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল সাজানো নাটকের মাধ্যমে। এখন সময় এসেছে সংস্কারের। এ দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া জরুরি। যদি এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হয়, তবে আমরা চাই, ওই মাসেই নির্বাচন শুরু হোক।”

সভায় নিজের সংসদীয় আসন বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জের উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আগামী নির্বাচনে ভোট প্রার্থনা করেন সদ্য কারামুক্ত এই জামায়াত নেতা।

প্রায় ১৪ বছর পর নিজ এলাকায় ফিরে আসায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

পুনর্মিলনী ও শুকরানা সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান বেলাল, এটিএম আজম খান ও অধ্যাপক গোলাম রব্বানী।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার মগবাজার থেকে গ্রেফতার হন আজহারুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। শেষবার তিনি বদরগঞ্জ গিয়েছিলেন ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে। এবার ১২ জুন ২০২৫ তারিখে তিনি ফের ফিরে গেলেন নিজের এলাকায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসির রায় দিয়েও মুখ বন্ধ করতে পারেনি, আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন’: এটিএম আজহারুল

আপডেট সময় ০৫:২৫:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

 

দীর্ঘ ১৪ বছর কারাভোগ শেষে নিজ এলাকায় ফিরে এসে এক আবেগঘন মুহূর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ও ঢাকার সাবেক মহানগর আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, “মিথ্যা মামলায় ফাঁসির রায় দিয়েও আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের মুখ বন্ধ করতে পারেনি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।”

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দুপুরে রংপুরের তারাগঞ্জে শুকরানা সমাবেশ ও ঈদ পুনর্মিলনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  মিথ্যা মামলায় হয়রানি না করার নির্দেশ পুলিশকে দেওয়া আছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

তিনি বলেন, “এখন আমি মুক্ত, এবং সত্যের পক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। আমি জীবনের বাকি সময়টা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় ব্যয় করতে চাই।”

এটিএম আজহার আরও বলেন, “গত ১৬ বছর ধরে এদেশে ফ্যাসিস্ট শাসন চলেছে, যার মূল্য পুরো জাতিকে দিতে হয়েছে। ৫ আগস্ট আমাদের মুক্তির দিন ছিল। তবে ষড়যন্ত্র থেমে নেই। কিছু অপশক্তি এখনো শকুনের মতো ওঁৎ পেতে আছে। এদের রুখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”

তিনি অতীতের বিচারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “অনেক আলেম-ওলামাকে ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছিল, যা ছিল অন্যায়। আমি দাবি জানাই, এসব মিথ্যা রায় ও সাক্ষ্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক।”

তিনি বলেন, “আমাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল সাজানো নাটকের মাধ্যমে। এখন সময় এসেছে সংস্কারের। এ দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া জরুরি। যদি এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হয়, তবে আমরা চাই, ওই মাসেই নির্বাচন শুরু হোক।”

সভায় নিজের সংসদীয় আসন বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জের উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আগামী নির্বাচনে ভোট প্রার্থনা করেন সদ্য কারামুক্ত এই জামায়াত নেতা।

প্রায় ১৪ বছর পর নিজ এলাকায় ফিরে আসায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

পুনর্মিলনী ও শুকরানা সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, মাহবুবুর রহমান বেলাল, এটিএম আজম খান ও অধ্যাপক গোলাম রব্বানী।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার মগবাজার থেকে গ্রেফতার হন আজহারুল ইসলাম। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। শেষবার তিনি বদরগঞ্জ গিয়েছিলেন ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে। এবার ১২ জুন ২০২৫ তারিখে তিনি ফের ফিরে গেলেন নিজের এলাকায়।