ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
প্রবাসী কার্ডে মিলবে বিমান টিকিট, লাউঞ্জ ও ভূমি সেবায় বিশেষ সুবিধা ‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

মেক্সিকোর গুয়ানাজুয়াতোর মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আগুন, নিহত ১২

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • / 482

ছবি সংগৃহীত

 

 

মেক্সিকোর সহিংসতায় বিপর্যস্ত রাজ্য গুয়ানাজুয়াতোর একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। এ ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন  শেরপুরে গারো পাহাড়ে আবারও হাতির আক্রমণ, নিহত ২

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ভোরে সান হোসে ইতুর্বে শহরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আগুন লাগে। পৌর সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা না গেলেও, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মেক্সিকোতে মাদক চক্রের সহিংসতা নতুন নয়। এর আগেও প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সদস্যরা পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলেই বন্দুকধারীরা সিনালোয়া রাজ্যের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে অন্তত ৯ জনকে হত্যা করে।

তবে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০২০ সালে গুয়ানাজুয়াতোর ইরাপুয়াতো শহরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে বন্দুকধারীরা ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং ২৭ জনকে হত্যা করে। এরও আগে ২০১০ সালে চিহুয়াহুয়া রাজ্যের একটি কেন্দ্রে সশস্ত্র হামলায় ১৯ জন নিহত হন।

এই ধরনের হামলার ঘটনা গত এক দশকে এক ডজনেরও বেশি ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে মেক্সিকোতে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ, যাদের অধিকাংশেরই খোঁজ মেলেনি আজও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদক চক্রের দৌরাত্ম্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতা মিলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোকেই এখন অনেক সময় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টার্গেট হিসেবে বেছে নিচ্ছে মাদক গ্যাংগুলো।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মেক্সিকোর গুয়ানাজুয়াতোর মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আগুন, নিহত ১২

আপডেট সময় ০১:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

 

 

মেক্সিকোর সহিংসতায় বিপর্যস্ত রাজ্য গুয়ানাজুয়াতোর একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। এ ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন  শেরপুরে গারো পাহাড়ে আবারও হাতির আক্রমণ, নিহত ২

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ভোরে সান হোসে ইতুর্বে শহরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আগুন লাগে। পৌর সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা না গেলেও, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মেক্সিকোতে মাদক চক্রের সহিংসতা নতুন নয়। এর আগেও প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সদস্যরা পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলেই বন্দুকধারীরা সিনালোয়া রাজ্যের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে অন্তত ৯ জনকে হত্যা করে।

তবে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০২০ সালে গুয়ানাজুয়াতোর ইরাপুয়াতো শহরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে বন্দুকধারীরা ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং ২৭ জনকে হত্যা করে। এরও আগে ২০১০ সালে চিহুয়াহুয়া রাজ্যের একটি কেন্দ্রে সশস্ত্র হামলায় ১৯ জন নিহত হন।

এই ধরনের হামলার ঘটনা গত এক দশকে এক ডজনেরও বেশি ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে মেক্সিকোতে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ, যাদের অধিকাংশেরই খোঁজ মেলেনি আজও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদক চক্রের দৌরাত্ম্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতা মিলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোকেই এখন অনেক সময় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টার্গেট হিসেবে বেছে নিচ্ছে মাদক গ্যাংগুলো।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।