ঢাকা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ

মেক্সিকোর গুয়ানাজুয়াতোর মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আগুন, নিহত ১২

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫
  • / 479

ছবি সংগৃহীত

 

 

মেক্সিকোর সহিংসতায় বিপর্যস্ত রাজ্য গুয়ানাজুয়াতোর একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। এ ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন  গুয়াতেমালায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত ৫১, শোকের ছায়া দেশজুড়ে

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ভোরে সান হোসে ইতুর্বে শহরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আগুন লাগে। পৌর সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা না গেলেও, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মেক্সিকোতে মাদক চক্রের সহিংসতা নতুন নয়। এর আগেও প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সদস্যরা পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলেই বন্দুকধারীরা সিনালোয়া রাজ্যের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে অন্তত ৯ জনকে হত্যা করে।

তবে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০২০ সালে গুয়ানাজুয়াতোর ইরাপুয়াতো শহরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে বন্দুকধারীরা ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং ২৭ জনকে হত্যা করে। এরও আগে ২০১০ সালে চিহুয়াহুয়া রাজ্যের একটি কেন্দ্রে সশস্ত্র হামলায় ১৯ জন নিহত হন।

এই ধরনের হামলার ঘটনা গত এক দশকে এক ডজনেরও বেশি ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে মেক্সিকোতে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ, যাদের অধিকাংশেরই খোঁজ মেলেনি আজও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদক চক্রের দৌরাত্ম্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতা মিলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোকেই এখন অনেক সময় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টার্গেট হিসেবে বেছে নিচ্ছে মাদক গ্যাংগুলো।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মেক্সিকোর গুয়ানাজুয়াতোর মাদক নিরাময় কেন্দ্রে আগুন, নিহত ১২

আপডেট সময় ০১:৩০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুন ২০২৫

 

 

মেক্সিকোর সহিংসতায় বিপর্যস্ত রাজ্য গুয়ানাজুয়াতোর একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। এ ঘটনায় আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আরও পড়ুন  জুলাইয়ে নিহতদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইলেন শাওন

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার ভোরে সান হোসে ইতুর্বে শহরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আগুন লাগে। পৌর সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা না গেলেও, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

মেক্সিকোতে মাদক চক্রের সহিংসতা নতুন নয়। এর আগেও প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সদস্যরা পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলেই বন্দুকধারীরা সিনালোয়া রাজ্যের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে অন্তত ৯ জনকে হত্যা করে।

তবে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ২০২০ সালে গুয়ানাজুয়াতোর ইরাপুয়াতো শহরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে বন্দুকধারীরা ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং ২৭ জনকে হত্যা করে। এরও আগে ২০১০ সালে চিহুয়াহুয়া রাজ্যের একটি কেন্দ্রে সশস্ত্র হামলায় ১৯ জন নিহত হন।

এই ধরনের হামলার ঘটনা গত এক দশকে এক ডজনেরও বেশি ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে মেক্সিকোতে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ও সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। একই সময়ে নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ, যাদের অধিকাংশেরই খোঁজ মেলেনি আজও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদক চক্রের দৌরাত্ম্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতা মিলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোকেই এখন অনেক সময় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টার্গেট হিসেবে বেছে নিচ্ছে মাদক গ্যাংগুলো।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থাও গুরুতর বলে জানা গেছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনায় অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।