ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
ফের মেলোনিকে খোঁচা দিলেন ট্রাম্প কলকাতায় জীবিত মুসলিম কিশোরীকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলা হয়েছিল: পুলিশ সাভারের ককটেল বিস্ফোরণে প্রশাসনের ইন্ধনের অভিযোগ নাহিদ ইসলামের সাভারে এনসিপির সমাবেশস্থলে বোমা বিস্ফোরণ, আহত ৩ বান্দরবানের সব পর্যটন কেন্দ্রে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা শ্রীলঙ্কার কারাগারে দাঙ্গা: নিহত ২৫, আহত শতাধিক ব্রাজিলের হারে কুষ্টিয়া-হবিগঞ্জে দুই যুবকের আত্মহত্যা, তদন্তে পুলিশ বাবার মতো বেতনের অংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী—বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী” অন্যের ওপর নির্ভর নয়, নিজস্ব উদ্যোগেই উন্নয়ন: মির্জা ফখরুল গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক রক্ষায় নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সরাইলে পূর্ববিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইউএনও ও ওসিসহ আহত ৩০

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
  • / 246

ছবি: সংগৃহীত

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে ইউএনও ও ওসিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সদর ইউনিয়নের চানমনিপাড়া ও মোঘলটুলা গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে ইটের আঘাতে আহত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশাররফ হোসাইন এবং ওসি রফিকুল হাসান।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে মোবাইল ফোনের চার্জার কেনাবেচা নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনার সূচনা হয়। সেই ঘটনার রেশ থেকেই চলমান উত্তেজনা গতকাল নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেয়।

আরও পড়ুন  বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২৮ শিক্ষার্থী আহত

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে, যখন চানমনিপাড়া গ্রামের হালিমা বেগম (৪২) ও তাঁর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০) চাল ভাঙাতে যান একটি স্থানীয় চালকলে। সেখানে মোঘলটুলা গ্রামের তরুণ তৌহিদ মিয়া (২০) হালিমা বেগমকে কটূক্তি করলে তাঁর ছেলে প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়, যা পরে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

রাত ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন দা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অনেকের হাতে ছিল টর্চলাইট। সংঘর্ষ চলাকালে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ইউএনও মোশাররফ হোসাইন, ওসি রফিকুল হাসান ও পুলিশের একটি দল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইটের আঘাতে ইউএনও আহত হন। ওসি রফিকুল হাসান রাত ১০টার দিকে গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁর চোখের ওপরে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে। সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার জানান, ওসি গুরুতর আহত হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইউএনও মোশাররফ হোসাইন বলেন, “কয়েক দিন আগেও সরাইলে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এই ধরনের সংঘর্ষের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। প্রশাসনের পক্ষে বিষয়টি উপেক্ষা করা সম্ভব নয় বলেই ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

সরাইলে পূর্ববিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইউএনও ও ওসিসহ আহত ৩০

আপডেট সময় ১২:১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে ইউএনও ও ওসিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সদর ইউনিয়নের চানমনিপাড়া ও মোঘলটুলা গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে ইটের আঘাতে আহত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশাররফ হোসাইন এবং ওসি রফিকুল হাসান।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে মোবাইল ফোনের চার্জার কেনাবেচা নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনার সূচনা হয়। সেই ঘটনার রেশ থেকেই চলমান উত্তেজনা গতকাল নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেয়।

আরও পড়ুন  মার্কিন রণতরীতে আগুন, আহত দুই নাবিক

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে, যখন চানমনিপাড়া গ্রামের হালিমা বেগম (৪২) ও তাঁর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০) চাল ভাঙাতে যান একটি স্থানীয় চালকলে। সেখানে মোঘলটুলা গ্রামের তরুণ তৌহিদ মিয়া (২০) হালিমা বেগমকে কটূক্তি করলে তাঁর ছেলে প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়, যা পরে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

রাত ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন দা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অনেকের হাতে ছিল টর্চলাইট। সংঘর্ষ চলাকালে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ইউএনও মোশাররফ হোসাইন, ওসি রফিকুল হাসান ও পুলিশের একটি দল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইটের আঘাতে ইউএনও আহত হন। ওসি রফিকুল হাসান রাত ১০টার দিকে গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁর চোখের ওপরে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে। সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার জানান, ওসি গুরুতর আহত হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইউএনও মোশাররফ হোসাইন বলেন, “কয়েক দিন আগেও সরাইলে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এই ধরনের সংঘর্ষের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। প্রশাসনের পক্ষে বিষয়টি উপেক্ষা করা সম্ভব নয় বলেই ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছে।”