ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সরাইলে পূর্ববিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইউএনও ও ওসিসহ আহত ৩০

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫
  • / 309

ছবি: সংগৃহীত

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে ইউএনও ও ওসিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সদর ইউনিয়নের চানমনিপাড়া ও মোঘলটুলা গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে ইটের আঘাতে আহত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশাররফ হোসাইন এবং ওসি রফিকুল হাসান।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে মোবাইল ফোনের চার্জার কেনাবেচা নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনার সূচনা হয়। সেই ঘটনার রেশ থেকেই চলমান উত্তেজনা গতকাল নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেয়।

আরও পড়ুন  ওয়ার ২’-এর শুটিংয়ে আহত হৃতিক রোশন, থমকালো কাজ

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে, যখন চানমনিপাড়া গ্রামের হালিমা বেগম (৪২) ও তাঁর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০) চাল ভাঙাতে যান একটি স্থানীয় চালকলে। সেখানে মোঘলটুলা গ্রামের তরুণ তৌহিদ মিয়া (২০) হালিমা বেগমকে কটূক্তি করলে তাঁর ছেলে প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়, যা পরে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

রাত ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন দা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অনেকের হাতে ছিল টর্চলাইট। সংঘর্ষ চলাকালে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ইউএনও মোশাররফ হোসাইন, ওসি রফিকুল হাসান ও পুলিশের একটি দল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইটের আঘাতে ইউএনও আহত হন। ওসি রফিকুল হাসান রাত ১০টার দিকে গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁর চোখের ওপরে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে। সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার জানান, ওসি গুরুতর আহত হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইউএনও মোশাররফ হোসাইন বলেন, “কয়েক দিন আগেও সরাইলে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এই ধরনের সংঘর্ষের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। প্রশাসনের পক্ষে বিষয়টি উপেক্ষা করা সম্ভব নয় বলেই ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

সরাইলে পূর্ববিরোধের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইউএনও ও ওসিসহ আহত ৩০

আপডেট সময় ১২:১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে ইউএনও ও ওসিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সদর ইউনিয়নের চানমনিপাড়া ও মোঘলটুলা গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে ইটের আঘাতে আহত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশাররফ হোসাইন এবং ওসি রফিকুল হাসান।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে মোবাইল ফোনের চার্জার কেনাবেচা নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনার সূচনা হয়। সেই ঘটনার রেশ থেকেই চলমান উত্তেজনা গতকাল নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেয়।

আরও পড়ুন  হাতিয়ার ইউএনও’র আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল: এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের দাবি

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে, যখন চানমনিপাড়া গ্রামের হালিমা বেগম (৪২) ও তাঁর ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০) চাল ভাঙাতে যান একটি স্থানীয় চালকলে। সেখানে মোঘলটুলা গ্রামের তরুণ তৌহিদ মিয়া (২০) হালিমা বেগমকে কটূক্তি করলে তাঁর ছেলে প্রতিবাদ জানায়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়, যা পরে ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

রাত ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজন দা, বল্লম, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অনেকের হাতে ছিল টর্চলাইট। সংঘর্ষ চলাকালে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান ইউএনও মোশাররফ হোসাইন, ওসি রফিকুল হাসান ও পুলিশের একটি দল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইটের আঘাতে ইউএনও আহত হন। ওসি রফিকুল হাসান রাত ১০টার দিকে গুরুতরভাবে আহত হন। তাঁর চোখের ওপরে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে। সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার জানান, ওসি গুরুতর আহত হওয়ায় দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইউএনও মোশাররফ হোসাইন বলেন, “কয়েক দিন আগেও সরাইলে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এই ধরনের সংঘর্ষের সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। প্রশাসনের পক্ষে বিষয়টি উপেক্ষা করা সম্ভব নয় বলেই ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছে।”