ঢাকা ০৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সবুজ এবং টেকসই পৃথিবী রেখে যেতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:০৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • / 282

ছবি সংগৃহীত

 

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক, সবুজ এবং টেকসই পৃথিবী রেখে যেতে হবে; যেটি জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির সংমিশ্রণে গঠিত হবে। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

মঙ্গলবার দোহায় অনুষ্ঠিত আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ এখন এমন এক সময়ে অবস্থান করছে, যেখানে নতুন এক সামাজিক চুক্তির ভিত্তি স্থাপন করা সম্ভব। এটি হবে রাষ্ট্র এবং জনগণের, বিশেষত তরুণ সমাজের অংশগ্রহণে, ন্যায়বিচার, সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে একটি নতুন পথরেখা।”

আরও পড়ুন  মানুষের জন্ম হয়েছে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য : প্রধান উপদেষ্টা

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, বাংলাদেশ হোক পৃথিবীর জন্য এক আশার আলো। সেই লক্ষ্যে, আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র ও সহযোগীদের আহ্বান জানাই সামাজিক ব্যবসা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও মাইক্রোফাইন্যান্সের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন সামাজিক চুক্তি তৈরি করতে, যা প্রান্তিক জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে।”

ড. ইউনূসের মতে, টেকসই উন্নয়নের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও প্রান্তিক জনগণের অংশগ্রহণ অত্যাবশ্যক। তিনি বলেন, “এখন আমরা এমন এক সংকটময় সময়ে রয়েছি, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি বেড়েছে, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে, মানবিক বিপর্যয় বেড়ে চলেছে এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতিতে, আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।”

তিনি বলেন, “আমাদের সাহসী হতে হবে। এমন একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কেউ এতটাই দরিদ্র হবে না যে স্বপ্ন দেখতে পারবে না, এবং কোনো স্বপ্ন এত বড় হবে না যা অর্জন করা অসম্ভব।”

ভবিষ্যৎ আমাদের উত্তরাধিকার নয়, বরং আমাদের নির্মাণ করা দায়িত্ব এই বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সবার এই পরিবর্তন সাধনে ভূমিকা রয়েছে। আমাদের সম্মিলিত উদ্ভাবন এবং সহমর্মিতা দিয়ে আমরা এই সংকট মোকাবিলা করবো।”

সম্মেলনের আয়োজক কাতার ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন শেখ মোজা বিনতে নাসের এবং ভাইস চেয়ারপারসন শেখ হিন্দ বিনতে হামাদ আল থানিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “এই সম্মেলন প্রমাণ করে, কীভাবে একটি দেশ ঐতিহ্য, অংশীদারিত্ব এবং উদ্ভাবনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাকে স্বাগত জানান কাতারের মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

নিউজটি শেয়ার করুন

পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সবুজ এবং টেকসই পৃথিবী রেখে যেতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৫:০৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

 

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ, স্থিতিস্থাপক, সবুজ এবং টেকসই পৃথিবী রেখে যেতে হবে; যেটি জ্ঞান, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির সংমিশ্রণে গঠিত হবে। মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

মঙ্গলবার দোহায় অনুষ্ঠিত আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ এখন এমন এক সময়ে অবস্থান করছে, যেখানে নতুন এক সামাজিক চুক্তির ভিত্তি স্থাপন করা সম্ভব। এটি হবে রাষ্ট্র এবং জনগণের, বিশেষত তরুণ সমাজের অংশগ্রহণে, ন্যায়বিচার, সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে একটি নতুন পথরেখা।”

আরও পড়ুন  নির্বাচনের রোডম্যাপ কোথায়? প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে জানতে চায় বিএনপি

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, বাংলাদেশ হোক পৃথিবীর জন্য এক আশার আলো। সেই লক্ষ্যে, আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র ও সহযোগীদের আহ্বান জানাই সামাজিক ব্যবসা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও মাইক্রোফাইন্যান্সের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন সামাজিক চুক্তি তৈরি করতে, যা প্রান্তিক জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে।”

ড. ইউনূসের মতে, টেকসই উন্নয়নের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও প্রান্তিক জনগণের অংশগ্রহণ অত্যাবশ্যক। তিনি বলেন, “এখন আমরা এমন এক সংকটময় সময়ে রয়েছি, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি বেড়েছে, ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে, মানবিক বিপর্যয় বেড়ে চলেছে এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা হুমকির মুখে। এই পরিস্থিতিতে, আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।”

তিনি বলেন, “আমাদের সাহসী হতে হবে। এমন একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কেউ এতটাই দরিদ্র হবে না যে স্বপ্ন দেখতে পারবে না, এবং কোনো স্বপ্ন এত বড় হবে না যা অর্জন করা অসম্ভব।”

ভবিষ্যৎ আমাদের উত্তরাধিকার নয়, বরং আমাদের নির্মাণ করা দায়িত্ব এই বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সবার এই পরিবর্তন সাধনে ভূমিকা রয়েছে। আমাদের সম্মিলিত উদ্ভাবন এবং সহমর্মিতা দিয়ে আমরা এই সংকট মোকাবিলা করবো।”

সম্মেলনের আয়োজক কাতার ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন শেখ মোজা বিনতে নাসের এবং ভাইস চেয়ারপারসন শেখ হিন্দ বিনতে হামাদ আল থানিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “এই সম্মেলন প্রমাণ করে, কীভাবে একটি দেশ ঐতিহ্য, অংশীদারিত্ব এবং উদ্ভাবনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাকে স্বাগত জানান কাতারের মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।