ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

চরমপন্থা’র অভিযোগে রাশিয়ায় চার সাংবাদিকের সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২২:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 305

ছবি সংগৃহীত

 

রাশিয়ায় স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের নতুন নজির হিসেবে এবার চার সাংবাদিককে সাড়ে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন মস্কোর নাগাতিনস্কি ডিস্ট্রিক্ট আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা প্রয়াত বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির প্রতিষ্ঠিত দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

দণ্ডিত সাংবাদিকরা হলেন আন্তোনিনা ফাভোরস্কায়া, কনস্তান্তিন গাবোভ, সের্গেই ক্যারেলিন ও আরতিয়ম ক্রিগার। গত মঙ্গলবার আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে ‘চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। তবে অভিযুক্ত সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তাঁরা শুধু তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আরও পড়ুন  ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ না হলে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

রাশিয়ার সরকার ২০২১ সালেই নাভালনির ‘এফবিকে’ নামক দুর্নীতিবিরোধী ফাউন্ডেশনকে বেআইনি ঘোষণা করে ‘চরমপন্থী’ আখ্যা দেয়। সমালোচকদের মতে, এটি ছিল মূলত রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করার একটি হাতিয়ার। এখন সেই সংস্থার সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগাযোগ থাকার অভিযোগ তুলে তাঁদের সাজা দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মধ্যে ফাভোরস্কায়া ও ক্রিগার ছিলেন স্বাধীন সংবাদমাধ্যম সোতা ভিশনের সঙ্গে যুক্ত। গাবোভ রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফ্রিল্যান্স প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন। ক্যারেলিন ছিলেন একজন ভিডিও সাংবাদিক, যিনি নিয়মিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসে প্রতিবেদন পাঠাতেন।

সাংবাদিকতা সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। নাভালনির মৃত্যু নিয়ে যেভাবে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে, একইভাবে এই সাংবাদিকদের সাজাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

নাভালনি দীর্ঘদিন ধরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রধান সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো রাষ্ট্রক্ষমতাকে বারবার চাপে ফেলেছিল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে ১৯ বছরের সাজা ভোগ করার সময় রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর আগেও তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত ও রসিক, যা তাঁর মৃত্যু নিয়ে আরও সন্দেহ বাড়িয়েছে।

নাভালনির মৃত্যুর পর তাঁর অনুসারী ও সমর্থকদের প্রতি দমনপীড়ন আরও জোরদার হয়েছে। এই সাংবাদিকদের সাজাও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

চরমপন্থা’র অভিযোগে রাশিয়ায় চার সাংবাদিকের সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় ১১:২২:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

 

রাশিয়ায় স্বাধীন সাংবাদিকতার উপর ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের নতুন নজির হিসেবে এবার চার সাংবাদিককে সাড়ে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন মস্কোর নাগাতিনস্কি ডিস্ট্রিক্ট আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা প্রয়াত বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির প্রতিষ্ঠিত দুর্নীতিবিরোধী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

দণ্ডিত সাংবাদিকরা হলেন আন্তোনিনা ফাভোরস্কায়া, কনস্তান্তিন গাবোভ, সের্গেই ক্যারেলিন ও আরতিয়ম ক্রিগার। গত মঙ্গলবার আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে ‘চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। তবে অভিযুক্ত সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তাঁরা শুধু তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আরও পড়ুন  মহাকাশ থেকে বিশ্বের বৃহত্তম হিমশৈলের ছবি ধারণ করল রাশিয়া 

রাশিয়ার সরকার ২০২১ সালেই নাভালনির ‘এফবিকে’ নামক দুর্নীতিবিরোধী ফাউন্ডেশনকে বেআইনি ঘোষণা করে ‘চরমপন্থী’ আখ্যা দেয়। সমালোচকদের মতে, এটি ছিল মূলত রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করার একটি হাতিয়ার। এখন সেই সংস্থার সঙ্গে সাংবাদিকদের যোগাযোগ থাকার অভিযোগ তুলে তাঁদের সাজা দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের মধ্যে ফাভোরস্কায়া ও ক্রিগার ছিলেন স্বাধীন সংবাদমাধ্যম সোতা ভিশনের সঙ্গে যুক্ত। গাবোভ রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফ্রিল্যান্স প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন। ক্যারেলিন ছিলেন একজন ভিডিও সাংবাদিক, যিনি নিয়মিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসে প্রতিবেদন পাঠাতেন।

সাংবাদিকতা সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে। নাভালনির মৃত্যু নিয়ে যেভাবে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে, একইভাবে এই সাংবাদিকদের সাজাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

নাভালনি দীর্ঘদিন ধরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রধান সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো রাষ্ট্রক্ষমতাকে বারবার চাপে ফেলেছিল। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাইবেরিয়ার একটি কারাগারে ১৯ বছরের সাজা ভোগ করার সময় রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মৃত্যুর আগেও তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত ও রসিক, যা তাঁর মৃত্যু নিয়ে আরও সন্দেহ বাড়িয়েছে।

নাভালনির মৃত্যুর পর তাঁর অনুসারী ও সমর্থকদের প্রতি দমনপীড়ন আরও জোরদার হয়েছে। এই সাংবাদিকদের সাজাও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।