ঢাকা ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত বিমানবাহিনী ছেড়ে এবার যাত্রীবাহী বিমান চালাবেন অভিনন্দন ‘সুইপার আর হারপিক নিয়ে আসেন, আমি ক্লিন করব’: কৃষিমন্ত্রী

কক্সবাজারে পৃথক স্থানে পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
  • / 603

ছবি সংগৃহীত

 

 

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে উপজেলার পৃথক তিনটি স্থানে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশের

নিহত শিশুরা হলো উপজেলার বড়ঘোপ অমজাখালী গ্রামের রোকনুজ্জামানের দুই বছরের কন্যা রাফা, একই গ্রামের জসীম উদ্দিনের দুই বছরের ছেলে তাসিব এবং উত্তর বড়ঘোপ এলাকার মো. দেলোয়ারের পাঁচ বছরের ছেলে তুহিন।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, শিশু তিনজনই বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে তাদের অচেতন অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করে দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশু তিনজনই মারা যায়।

কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হাসান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শিশুগুলো হাসপাতালে আনার আগেই মারা যায়। তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

এদিকে, কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান হোসেন জানান, “এ উপজেলায় পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে অভিভাবকদের অসচেতনতা ও নজরদারির অভাব। সাংসারিক ব্যস্ততায় শিশুরা একা একা পুকুরপাড়ে চলে যায় এবং এ ধরণের দুর্ঘটনার শিকার হয়।”

ওসি আরও বলেন, “শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি এবং সচেতনতা জরুরি। প্রতিটি পরিবারের উচিত ঘরের আশপাশের পুকুর ও জলাধার নিরাপদ রাখা এবং শিশুদের একা বাইরে খেলতে না দেওয়া।”

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, একইদিনে তিন শিশুর মৃত্যুতে গ্রামে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরগুলোর পাশে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পরিবার ও সমাজের সমন্বিত সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা বারবারই ঘটতে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারে পৃথক স্থানে পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় ০৩:০৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

 

 

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে উপজেলার পৃথক তিনটি স্থানে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশের

নিহত শিশুরা হলো উপজেলার বড়ঘোপ অমজাখালী গ্রামের রোকনুজ্জামানের দুই বছরের কন্যা রাফা, একই গ্রামের জসীম উদ্দিনের দুই বছরের ছেলে তাসিব এবং উত্তর বড়ঘোপ এলাকার মো. দেলোয়ারের পাঁচ বছরের ছেলে তুহিন।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, শিশু তিনজনই বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে তাদের অচেতন অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করে দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশু তিনজনই মারা যায়।

কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হাসান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শিশুগুলো হাসপাতালে আনার আগেই মারা যায়। তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

এদিকে, কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান হোসেন জানান, “এ উপজেলায় পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে অভিভাবকদের অসচেতনতা ও নজরদারির অভাব। সাংসারিক ব্যস্ততায় শিশুরা একা একা পুকুরপাড়ে চলে যায় এবং এ ধরণের দুর্ঘটনার শিকার হয়।”

ওসি আরও বলেন, “শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি এবং সচেতনতা জরুরি। প্রতিটি পরিবারের উচিত ঘরের আশপাশের পুকুর ও জলাধার নিরাপদ রাখা এবং শিশুদের একা বাইরে খেলতে না দেওয়া।”

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, একইদিনে তিন শিশুর মৃত্যুতে গ্রামে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরগুলোর পাশে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পরিবার ও সমাজের সমন্বিত সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা বারবারই ঘটতে থাকবে।