ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :

রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য দ্বিমুখী স্বাস্থ্য অ্যাপের প্রস্তাব

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • / 116

ছবি সংগৃহীত

নারীদের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি দ্বিমুখী ডিজিটাল স্বাস্থ্য অ্যাপ চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, নারী স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের লক্ষ্য হলো আধুনিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘হার হেলথ বাংলাদেশ: নারীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ ত্বরান্বিতকরণ—জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সেমিনারটি আয়োজনে সহযোগিতা করে জাতিসংঘের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ইউএনএফপিএ। কর্মসূচিতে যৌথভাবে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচির ‘ডিজিটাল হেলথ অ্যান্ড ইনোভেশন’ অংশটি সময়োপযোগী। এর আওতায় এমন একটি ডিজিটাল অ্যাপ তৈরি করা প্রয়োজন, যার একটি অংশ ব্যবহার করবেন রোগীরা এবং অন্যটি স্বাস্থ্যসেবাদানকারী কর্মীরা।

তিনি বলেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রোগীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত ফলো-আপ রিমাইন্ডার, স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ সহজেই পেতে পারবেন।

চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এম এ মুহিত বলেন, স্তন ক্যান্সার ও ফিস্টুলা স্ক্রিনিং বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তরুণ সার্জনদের সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসকদের জন্য ক্যান্সার থেরাপির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের বিষয়টিও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন।

তিনি দেশের তরুণ চিকিৎসকদের জন্য ইউরোপের বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমেয়াদি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ফেলোশিপের সুযোগ তৈরিতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করতে বর্তমানে কর্মরত তিন ধরনের ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীকে একীভূত করে ‘কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার’ নামে একটি সমন্বিত বাহিনী গঠন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নতুন এক লাখ কর্মী যুক্ত হওয়ার পর দেশে মোট ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার প্রতিটি পরিবার পরিদর্শন করবেন। তারা জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিংসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) শাহ ইমাম আলী রেজা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন ক্যামকং এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম।

নিউজটি শেয়ার করুন

রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য দ্বিমুখী স্বাস্থ্য অ্যাপের প্রস্তাব

আপডেট সময় ০৭:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

নারীদের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি দ্বিমুখী ডিজিটাল স্বাস্থ্য অ্যাপ চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, নারী স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের লক্ষ্য হলো আধুনিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘হার হেলথ বাংলাদেশ: নারীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ ত্বরান্বিতকরণ—জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য এবং জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সেমিনারটি আয়োজনে সহযোগিতা করে জাতিসংঘের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ইউএনএফপিএ। কর্মসূচিতে যৌথভাবে অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচির ‘ডিজিটাল হেলথ অ্যান্ড ইনোভেশন’ অংশটি সময়োপযোগী। এর আওতায় এমন একটি ডিজিটাল অ্যাপ তৈরি করা প্রয়োজন, যার একটি অংশ ব্যবহার করবেন রোগীরা এবং অন্যটি স্বাস্থ্যসেবাদানকারী কর্মীরা।

তিনি বলেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রোগীরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত ফলো-আপ রিমাইন্ডার, স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ সহজেই পেতে পারবেন।

চিকিৎসক ও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এম এ মুহিত বলেন, স্তন ক্যান্সার ও ফিস্টুলা স্ক্রিনিং বিষয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তরুণ সার্জনদের সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসকদের জন্য ক্যান্সার থেরাপির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের বিষয়টিও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত থাকা প্রয়োজন।

তিনি দেশের তরুণ চিকিৎসকদের জন্য ইউরোপের বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমেয়াদি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ফেলোশিপের সুযোগ তৈরিতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করতে বর্তমানে কর্মরত তিন ধরনের ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মীকে একীভূত করে ‘কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার’ নামে একটি সমন্বিত বাহিনী গঠন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, নতুন এক লাখ কর্মী যুক্ত হওয়ার পর দেশে মোট ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার প্রতিটি পরিবার পরিদর্শন করবেন। তারা জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিংসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) শাহ ইমাম আলী রেজা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন ক্যামকং এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম।