তুই আসামি, কথা বলবি না’- পুলিশি হেনস্তায় ক্রিকেটার নাঈম
- আপডেট সময় ০১:১৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
- / 52
জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে চট্টগ্রামে ফেরার পর নগরের লালখান বাজার এলাকায় ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং পরে থানায় নিয়ে যান।
শুক্রবার, ১২ জুন রাতে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন নাঈম। তিনি জানান, ঢাকা থেকে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তার চট্টগ্রাম পৌঁছানোর কথা থাকলেও ফ্লাইট বিলম্বিত হওয়ায় রাত ১০টা ২০ মিনিটে তিনি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
নাঈমের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশাযোগে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের এক সদস্য গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। এরপর ওই পুলিশ সদস্য ও তার সঙ্গে থাকা সাদা পোশাকধারী একজন ব্যক্তি চালকের কাগজপত্র পরীক্ষা করেন।
জাতীয় দলের এই ক্রিকেটারের অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তার পরিচয় নিশ্চিত করলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নাঈম বলেন, তিনি পুলিশ সদস্যদের তার ব্যাগ তল্লাশির অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে কথোপকথনের এক পর্যায়ে তাকে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং পরে তাকে মারধর করা হয়।
তার দাবি, ঘটনাস্থলে থাকা একজন ব্যক্তি নিজের পরিচয় দেননি এবং তিনিও মারধরে অংশ নেন। নাঈমের ভাষ্য অনুযায়ী, উপস্থিত লোকজন তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে ‘আসামি’ বলে সম্বোধন করেন এবং কথা বলতে নিষেধ করেন।
নাঈম আরও অভিযোগ করেন, পরে তাকে খুলশি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছু সময় রাখার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশি হওয়া স্বাভাবিক হলেও কোনো কারণ ছাড়া শারীরিকভাবে হেনস্তা করা কেন প্রয়োজন হলো।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে এই ক্রিকেটার বলেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
এদিকে নাঈম জানান, ঘটনার পর তিনি সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তামিম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকেও বিষয়টির বিচার হবে বলে তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
























