ঢাকা ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের পয়েন্টে মরক্কোর থাবা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:১৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 20

ছবি সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সূচনা করতে পারেনি ব্রাজিল। শনিবার, ১৪ জুন নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (মেটলাইফ স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে দেখা যায় মরক্কোকে। আশরাফ হাকিমিদের নেতৃত্বে আফ্রিকার দলটি প্রথম কয়েক মিনিটে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ব্রাজিলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিপরীতে সেলেসাওরা বল দখল ও পাসিংয়ে ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা সময় নেয়।

প্রথম দশ মিনিট পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে খেলায় ফেরে ব্রাজিল। ১৪তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ পাস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে গোলমুখে থাকা ইগর থিয়াগো বলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে না পারায় সুযোগটি নষ্ট হয়।

আরও পড়ুন  বলসোনারোকে ২৭ বছরের সাজা দিল ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট

এর কিছুক্ষণ পরই ম্যাচে এগিয়ে যায় মরক্কো। মাঝমাঠে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাস ধরে সামনে এগিয়ে যান ইসমাইল সাইবারি। গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার ডি-বক্সের বাইরে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা ভেদ করে বল জালে পাঠান মরক্কোর এই ফরোয়ার্ড।

গোল হজমের পর ব্রাজিল দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। হাইড্রেশন বিরতির পর তাদের আক্রমণের তীব্রতা বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩২তম মিনিটে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচে সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেওয়ার পর শক্তিশালী শটে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোকে পরাস্ত করেন তিনি।

সমতায় ফেরার পর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে লুকাস পাকেতা ব্রাজিলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেলেও বোনোর দারুণ সেভে রক্ষা পায় মরক্কো। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ক্যাসেমিরো ও রজার ইবানেজের পরিবর্তে মাঠে নামেন দানিলো ও ফাবিনিয়ো। এতে কিছুটা গতি ফিরে পায় ব্রাজিলের খেলা। ৫২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে ইগর থিয়াগো গোলের সুযোগ পেলেও আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান বোনো।

৬১তম মিনিটে আরও দুটি পরিবর্তন আনে ব্রাজিল। ইগর থিয়াগো ও লুকাস পাকেতার জায়গায় মাঠে নামেন ম্যাথিয়াস কুনিয়া ও লুইজ হেনরিকে। একই সময়ে মরক্কোও একাধিক পরিবর্তন করে। তবে এরপর ম্যাচে দুই দলের লড়াই অব্যাহত থাকলেও উল্লেখযোগ্য গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি হয়নি।

ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে রাফিনিয়ার একটি শটও প্রতিহত করেন মরক্কোর গোলরক্ষক। ম্যাচের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের উষ্ণ আবহাওয়ার প্রভাব দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা অতিরিক্ত সময়েও দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যায়।

শেষ মুহূর্তে মরক্কো জয়সূচক গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে অ্যালিসন বেকারের গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপে বিপদ কাটায় ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।

ফলে বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতেই পয়েন্ট হারাতে হলো ব্রাজিলকে। অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মূল্যবান এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে গ্রুপ ‘সি’র লড়াই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে মরক্কো।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিলের পয়েন্টে মরক্কোর থাবা

আপডেট সময় ১০:১৭:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত সূচনা করতে পারেনি ব্রাজিল। শনিবার, ১৪ জুন নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে (মেটলাইফ স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের গোলে সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করতে পারেনি কার্লো আনচেলত্তির দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে দেখা যায় মরক্কোকে। আশরাফ হাকিমিদের নেতৃত্বে আফ্রিকার দলটি প্রথম কয়েক মিনিটে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ব্রাজিলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বিপরীতে সেলেসাওরা বল দখল ও পাসিংয়ে ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা সময় নেয়।

প্রথম দশ মিনিট পার হওয়ার পর ধীরে ধীরে খেলায় ফেরে ব্রাজিল। ১৪তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ পাস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে গোলমুখে থাকা ইগর থিয়াগো বলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে না পারায় সুযোগটি নষ্ট হয়।

আরও পড়ুন  জুনেই রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নিবেন আনচেলত্তি

এর কিছুক্ষণ পরই ম্যাচে এগিয়ে যায় মরক্কো। মাঝমাঠে ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত পাস ধরে সামনে এগিয়ে যান ইসমাইল সাইবারি। গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার ডি-বক্সের বাইরে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা ভেদ করে বল জালে পাঠান মরক্কোর এই ফরোয়ার্ড।

গোল হজমের পর ব্রাজিল দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। হাইড্রেশন বিরতির পর তাদের আক্রমণের তীব্রতা বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩২তম মিনিটে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ম্যাচে সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেওয়ার পর শক্তিশালী শটে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোকে পরাস্ত করেন তিনি।

সমতায় ফেরার পর দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে লুকাস পাকেতা ব্রাজিলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেলেও বোনোর দারুণ সেভে রক্ষা পায় মরক্কো। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ক্যাসেমিরো ও রজার ইবানেজের পরিবর্তে মাঠে নামেন দানিলো ও ফাবিনিয়ো। এতে কিছুটা গতি ফিরে পায় ব্রাজিলের খেলা। ৫২তম মিনিটে ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে ইগর থিয়াগো গোলের সুযোগ পেলেও আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান বোনো।

৬১তম মিনিটে আরও দুটি পরিবর্তন আনে ব্রাজিল। ইগর থিয়াগো ও লুকাস পাকেতার জায়গায় মাঠে নামেন ম্যাথিয়াস কুনিয়া ও লুইজ হেনরিকে। একই সময়ে মরক্কোও একাধিক পরিবর্তন করে। তবে এরপর ম্যাচে দুই দলের লড়াই অব্যাহত থাকলেও উল্লেখযোগ্য গোলের সুযোগ খুব বেশি তৈরি হয়নি।

ম্যাচের ৮৩তম মিনিটে রাফিনিয়ার একটি শটও প্রতিহত করেন মরক্কোর গোলরক্ষক। ম্যাচের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের উষ্ণ আবহাওয়ার প্রভাব দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা অতিরিক্ত সময়েও দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যায়।

শেষ মুহূর্তে মরক্কো জয়সূচক গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে অ্যালিসন বেকারের গুরুত্বপূর্ণ হস্তক্ষেপে বিপদ কাটায় ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।

ফলে বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতেই পয়েন্ট হারাতে হলো ব্রাজিলকে। অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মূল্যবান এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে গ্রুপ ‘সি’র লড়াই আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে মরক্কো।