আড়াইহাজারে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ
- আপডেট সময় ১২:৪১:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 90
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে ওসমান গনি (৪০) নামে এক প্রভাবশালী স্থানীয় বিএনপি নেতাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে নিহতের ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।
বিক্ষোভ চলাকালীন উত্তেজিত জনতা সড়কে বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে, গত বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চরপাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত ওসমান গনি ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলার বড় বিনাইরচর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার নাতনি জামাই এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব জুবায়ের হোসেন জিকুর ছোট চাচা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রমজান আলীর সঙ্গে ভেকু দিয়ে অবৈধ মাটি কাটা নিয়ে ওসমান গনির দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
গতকাল বুধবার রাতে এই বিরোধের জেরে রমজান আলীর একদল সশস্ত্র অনুসারী অতর্কিত ওসমান গনির ওপর হামলা চালায় এবং তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।
রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আড়াইহাজার জবেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে ঢাকায় নিয়ে আসার পথেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মূল অপরাধীদের শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। একই সঙ্গে আড়াইহাজার-গাউছিয়া রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার কাজ করছে।

























