ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 21

ছবি: সংগৃহীত

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে গিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে চার দিন ধরে দাপট দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল লাল-সবুজের দল।

টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে র‌্যাঙ্কিংয়ে নবম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের এই জয় দেশের টেস্ট ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক অর্জন হয়ে থাকল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় এমনিতেই কঠিন। তার ওপর স্বাগতিক দলের বোলিং আক্রমণে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো অভিজ্ঞ পেসার থাকলেও বাংলাদেশ পুরো ম্যাচজুড়ে নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেছে।

২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে এবার সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে দিল তারা।

আরও পড়ুন  আইসিসি হল অব ফেমে নতুন সাত কিংবদন্তি, তালিকায় ধোনি, হেইডেন, আমলারা

১৩ আগস্ট শুরু হওয়া টেস্টের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের পেসাররা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান। দুইশ রানের আগেই স্বাগতিকদের অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে ব্যাট হাতেও দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

তানজিদ হাসান তামিম করেন ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। তাদের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে টেলএন্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২৮ রানের লিড নেয় বাংলাদেশ।

বিদেশের মাটিতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের এটাই সবচেয়ে বড় লিড। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই চাপের মধ্যে পড়ে যায়। বাংলাদেশের বোলাররাও সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেন।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টিভ স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের হয়ে লড়াই করেন ক্যামেরন গ্রিন। দেশের মাটিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে লিড এনে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকর স্পিনে সেই লিড বড় হতে পারেনি।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হাসানও। তার জোড়া আঘাতে স্বাগতিকদের ব্যাটিং চাপে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭ রান।

জবাব দিতে নেমে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম কোনো রান না করেই আউট হন। তবে এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক দায়িত্ব নিয়ে দলকে লক্ষ্যের কাছে পৌঁছে দেন।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫৪ রানে অলআউট করার পর যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে অস্ট্রেলিয়া টেস্টে নেমেছিল, ম্যাচের মূল লড়াইয়ে সেটি কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই জয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো বাংলাদেশের। একই সঙ্গে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়

আপডেট সময় ১১:৫৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে গিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে চার দিন ধরে দাপট দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল লাল-সবুজের দল।

টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে র‌্যাঙ্কিংয়ে নবম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের এই জয় দেশের টেস্ট ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এক অর্জন হয়ে থাকল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয় এমনিতেই কঠিন। তার ওপর স্বাগতিক দলের বোলিং আক্রমণে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের মতো অভিজ্ঞ পেসার থাকলেও বাংলাদেশ পুরো ম্যাচজুড়ে নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেছে।

২৩ বছর আগে ডারউইন ও কেয়ার্নসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিল বাংলাদেশ। দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে এবার সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে দিল তারা।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক চুক্তি—কী কী আছে এই ১৪ দফায়?

১৩ আগস্ট শুরু হওয়া টেস্টের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের পেসাররা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান। দুইশ রানের আগেই স্বাগতিকদের অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে ব্যাট হাতেও দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে বাংলাদেশের ব্যাটাররা।

তানজিদ হাসান তামিম করেন ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজও তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। তাদের ব্যাটিংয়ের সঙ্গে টেলএন্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২২৮ রানের লিড নেয় বাংলাদেশ।

বিদেশের মাটিতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের এটাই সবচেয়ে বড় লিড। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই চাপের মধ্যে পড়ে যায়। বাংলাদেশের বোলাররাও সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দেন।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্টিভ স্মিথ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে দলের হয়ে লড়াই করেন ক্যামেরন গ্রিন। দেশের মাটিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে লিড এনে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকর স্পিনে সেই লিড বড় হতে পারেনি।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন হাসানও। তার জোড়া আঘাতে স্বাগতিকদের ব্যাটিং চাপে পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭ রান।

জবাব দিতে নেমে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম কোনো রান না করেই আউট হন। তবে এরপর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক দায়িত্ব নিয়ে দলকে লক্ষ্যের কাছে পৌঁছে দেন।

প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫৪ রানে অলআউট করার পর যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে অস্ট্রেলিয়া টেস্টে নেমেছিল, ম্যাচের মূল লড়াইয়ে সেটি কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ৫৭ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

এই জয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো বাংলাদেশের। একই সঙ্গে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা।