ঢাকা ০২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক চুক্তি—কী কী আছে এই ১৪ দফায়?

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 16

ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ-এ অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘ চার মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং এর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৪ দফার এই চুক্তিকে মূলত একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, যার মূল শর্ত হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে পারবে না।

চুক্তির অন্যতম প্রধান দিক হলো ইরানের “পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের” জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বাধ্যতামূলক নয়। ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে মূলত একটি কর্মসম্পাদন বা পারফর্ম্যান্সভিত্তিক চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর অর্থ হলো, ইরান যদি চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের প্রতিশ্রুতিগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করে, তবেই কেবল তারা এই চুক্তির সুবিধা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা লাভ করবে।

চুক্তির প্রথম দফায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেবে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, কারণ এটি চুক্তিটিকে ব্যাহত করতে পারত। অন্যদিকে তেহরানও লেবাননকে এই যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিল। চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন থেকে কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করবে না বা হুমকি দেবে না এবং লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা হবে। নথি অনুযায়ী, চূড়ান্ত এই চুক্তি সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাবে।

আরও পড়ুন  বিদ্যুৎখাত সংক্রান্ত সব ধরনের চুক্তি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে: অর্থ উপদেষ্টা

দ্বিতীয় দফা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে এবং একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে বিরত থাকবে।

তৃতীয় দফায় একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা উভয় পক্ষের সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে। দুই দেশের নেতারা সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করার পর থেকেই এই সময় গণনা শুরু হয়েছে। গত বুধবার রাতে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি৭ সম্মেলন পরবর্তী এক নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নথিতে স্বাক্ষর করেন, যা একই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকেও স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির চতুর্থ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধ এবং যেকোনো বিঘ্ন বা প্রতিবন্ধকতা অপসারণ শুরু করবে, যা পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। এ সময়ে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

পঞ্চম দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে কোনো ধরনের ফি বা টোল ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে। কারিগরি ও সামরিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে জাহাজ চলাচল অবিলম্বে শুরু হবে। দীর্ঘমেয়াদে ইরান ওমান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় আরও বিস্তৃত একটি কাঠামোগত চুক্তির জন্য কাজ করবে।

ষষ্ঠ দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি চূড়ান্ত ও পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থায়ন করবে বা এক পয়সাও দেবে। ইরান যদি ইতিবাচক আচরণ বজায় রাখে, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক অংশীদাররা মার্কিন অনুমোদন নিয়ে ইরানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা অন্যান্য বিনিয়োগ করতে পারবে।

সপ্তম দফা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে, যার মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় থাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সময়সূচি চূড়ান্ত চুক্তির পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে।

অষ্টম দফায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা অর্জন না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র তত্ত্বাবধানে তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মান বা তীব্রতা হ্রাস করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

নবম ও দশম দফা অনুযায়ী, পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং একই সময়ে তারা তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য ছাড়পত্র জারি রাখবে।

চুক্তির একাদশ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ বা আটকানো সব অর্থ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে, যার প্রক্রিয়া পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে। কিছু সম্পদ এমওইউ-পরবর্তী আলোচনার সময় মুক্ত করা হবে, যাতে শর্তগুলো মানতে ইরানকে উৎসাহ দেওয়া যায়।

দ্বাদশ থেকে চতুর্দশ দফায় চুক্তি বাস্তবায়নের কাঠামো ও প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন একটি ব্যবস্থা গঠন করবে, যা এমওইউ বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্ত মানা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করবে। এমওইউ স্বাক্ষরের পর উভয় দেশ চূড়ান্ত একটি চুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে এবং সবশেষে চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ঐতিহাসিক চুক্তি—কী কী আছে এই ১৪ দফায়?

আপডেট সময় ০১:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাঁ-এ অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান একটি ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘ চার মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং এর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৪ দফার এই চুক্তিকে মূলত একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে, যার মূল শর্ত হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে পারবে না।

চুক্তির অন্যতম প্রধান দিক হলো ইরানের “পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের” জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি। তবে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বাধ্যতামূলক নয়। ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তিকে মূলত একটি কর্মসম্পাদন বা পারফর্ম্যান্সভিত্তিক চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর অর্থ হলো, ইরান যদি চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের প্রতিশ্রুতিগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করে, তবেই কেবল তারা এই চুক্তির সুবিধা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা লাভ করবে।

চুক্তির প্রথম দফায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেবে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, কারণ এটি চুক্তিটিকে ব্যাহত করতে পারত। অন্যদিকে তেহরানও লেবাননকে এই যুদ্ধবিরতির আওতাভুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছিল। চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এখন থেকে কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করবে না বা হুমকি দেবে না এবং লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা হবে। নথি অনুযায়ী, চূড়ান্ত এই চুক্তি সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটাবে।

আরও পড়ুন  চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তান ও ইরান

দ্বিতীয় দফা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে এবং একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপে বিরত থাকবে।

তৃতীয় দফায় একটি চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা উভয় পক্ষের সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে। দুই দেশের নেতারা সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করার পর থেকেই এই সময় গণনা শুরু হয়েছে। গত বুধবার রাতে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে জি৭ সম্মেলন পরবর্তী এক নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নথিতে স্বাক্ষর করেন, যা একই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকেও স্বাক্ষরিত হয়।

চুক্তির চতুর্থ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ অবরোধ এবং যেকোনো বিঘ্ন বা প্রতিবন্ধকতা অপসারণ শুরু করবে, যা পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। এ সময়ে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

পঞ্চম দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ইরান সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে কোনো ধরনের ফি বা টোল ছাড়াই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করবে। কারিগরি ও সামরিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং মাইন অপসারণ কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে জাহাজ চলাচল অবিলম্বে শুরু হবে। দীর্ঘমেয়াদে ইরান ওমান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় আরও বিস্তৃত একটি কাঠামোগত চুক্তির জন্য কাজ করবে।

ষষ্ঠ দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি চূড়ান্ত ও পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অর্থায়ন করবে বা এক পয়সাও দেবে। ইরান যদি ইতিবাচক আচরণ বজায় রাখে, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক অংশীদাররা মার্কিন অনুমোদন নিয়ে ইরানে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা অন্যান্য বিনিয়োগ করতে পারবে।

সপ্তম দফা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে, যার মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের আওতায় থাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সময়সূচি চূড়ান্ত চুক্তির পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে।

অষ্টম দফায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা অর্জন না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ’র তত্ত্বাবধানে তেহরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মান বা তীব্রতা হ্রাস করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

নবম ও দশম দফা অনুযায়ী, পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। এর অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না এবং একই সময়ে তারা তেল, পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য ছাড়পত্র জারি রাখবে।

চুক্তির একাদশ দফায় বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দ বা আটকানো সব অর্থ সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে, যার প্রক্রিয়া পরবর্তী আলোচনায় নির্ধারণ করা হবে। কিছু সম্পদ এমওইউ-পরবর্তী আলোচনার সময় মুক্ত করা হবে, যাতে শর্তগুলো মানতে ইরানকে উৎসাহ দেওয়া যায়।

দ্বাদশ থেকে চতুর্দশ দফায় চুক্তি বাস্তবায়নের কাঠামো ও প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন একটি ব্যবস্থা গঠন করবে, যা এমওইউ বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্ত মানা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করবে। এমওইউ স্বাক্ষরের পর উভয় দেশ চূড়ান্ত একটি চুক্তির জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করবে এবং সবশেষে চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।