বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর থামাল পুলিশ, সড়কে অবস্থান নেতাকর্মীদের
- আপডেট সময় ০৭:০০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / 37
হবিগঞ্জে জারি করা ১৪৪ ধারার কারণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহর বাহুবল উপজেলার প্রবেশমুখে আটকে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে বাহুবলের মুছাই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এনসিপির নেতাকর্মীরা সড়কে অবস্থান নেন এবং বৃষ্টির মধ্যেই দীর্ঘ সময় সেখানে বসে থাকেন।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ বলেন, জেলায় ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়ে এনসিপির গাড়িবহর। পরে ব্যারিকেড অতিক্রম করে তারা হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিলে বাহুবলের প্রবেশমুখে আবারও তাদের থামিয়ে দেয় পুলিশ।
বুধবার বিকেল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।
এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতারা। তাদের অভিযোগ, এ ঘটনায় দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।
১৪৪ ধারা জারির পরও হবিগঞ্জে যাওয়ার কর্মসূচিতে ছিলেন নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আতিক মুজাহিদ, সারোয়ার তুষারসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা সদরে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বলেন, তাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও ১৪৪ ধারার কারণে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা তা থেকে সরে এসেছেন। তবে বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, হবিগঞ্জ শান্তিপ্রিয় জেলা এবং এখানকার মানুষের দীর্ঘ রাজনৈতিক ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সমালোচনারও একটি শালীনতা থাকা প্রয়োজন। তার অভিযোগ, এনসিপির কয়েকজন নেতা প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রতিবাদের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কাম্য নয় এবং শালীন রাজনৈতিক চর্চার আহ্বান জানান তিনি।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সমাবেশ শেষে সার্কিট হাউসের পথে সবুজবাগ এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। এনসিপির দাবি, এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাদের বহনকারী কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরে তারা একটি ব্যাংকের শাখায় আশ্রয় নিলে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এনসিপির দাবি, এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
পরে পুলিশ রাত ৮টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। রাত ১১টার দিকে সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকার পথে যাত্রা করেন।
ঘটনার পর ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
























