ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লংমার্চের মাধ্যমে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

ঢাকা-রংপুর লংমার্চের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী পরিকল্পিতভাবে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তার দাবি, এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ নিহত হওয়ার স্থান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন  শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি পর্যন্ত জামায়াতের লং মার্চ

রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিকভাবে হঠকারী দল হিসেবে পরিচিত। সরকারের বয়স সাত মাস হলেও গত ছয় মাসের কার্যক্রম জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের মতো কর্মসূচি নেওয়া যৌক্তিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জামায়াতের আমির ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলেছেন। একই সময়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথাও বলা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেছিল উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, এবারও দল দুটি সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে কি না।

জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, লংমার্চের কর্মসূচি যদি জনবান্ধব হয়, তাহলে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত হেঁটে আসা উচিত। একই সঙ্গে জামায়াত জোটের এক নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের গাড়ি ব্যবহার করে লংমার্চে আসার অভিযোগ করেন তিনি।

লংমার্চের কারণে জনভোগান্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে রাশেদ খাঁন বলেন, সাত দফা দাবির জন্য রাস্তাঘাট বন্ধ করে এ ধরনের কর্মসূচির প্রয়োজন নেই। দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতিও হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, লংমার্চের নামে রাস্তাঘাট বন্ধ করে সরকারকে দেশ পরিচালনায় অসহযোগিতা করা হচ্ছে এবং জ্বালানির অপচয় হচ্ছে। আওয়ামী লীগও লংমার্চকে কেন্দ্র করে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে লংমার্চকে অযৌক্তিক মনে করলেও সরকার ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। বিএনপি ও সরকার কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মান ও পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাশেদ খাঁন। পরে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ফজলুর রহমান বাদল, লিটন পারভেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান, বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

লংমার্চের মাধ্যমে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত: রাশেদ খাঁন

আপডেট সময় ০৫:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ঢাকা-রংপুর লংমার্চের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী পরিকল্পিতভাবে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তার দাবি, এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ নিহত হওয়ার স্থান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন  নেতৃত্ব তরুণদের হাতে, পেছন থেকে সমর্থনের অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিকভাবে হঠকারী দল হিসেবে পরিচিত। সরকারের বয়স সাত মাস হলেও গত ছয় মাসের কার্যক্রম জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের মতো কর্মসূচি নেওয়া যৌক্তিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জামায়াতের আমির ডিসেম্বর থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলেছেন। একই সময়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথাও বলা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেছিল উল্লেখ করে রাশেদ খাঁন প্রশ্ন তোলেন, এবারও দল দুটি সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে কি না।

জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, লংমার্চের কর্মসূচি যদি জনবান্ধব হয়, তাহলে ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত হেঁটে আসা উচিত। একই সঙ্গে জামায়াত জোটের এক নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের গাড়ি ব্যবহার করে লংমার্চে আসার অভিযোগ করেন তিনি।

লংমার্চের কারণে জনভোগান্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে রাশেদ খাঁন বলেন, সাত দফা দাবির জন্য রাস্তাঘাট বন্ধ করে এ ধরনের কর্মসূচির প্রয়োজন নেই। দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতিও হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, লংমার্চের নামে রাস্তাঘাট বন্ধ করে সরকারকে দেশ পরিচালনায় অসহযোগিতা করা হচ্ছে এবং জ্বালানির অপচয় হচ্ছে। আওয়ামী লীগও লংমার্চকে কেন্দ্র করে পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে লংমার্চকে অযৌক্তিক মনে করলেও সরকার ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। বিএনপি ও সরকার কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার মান ও পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাশেদ খাঁন। পরে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট পরিদর্শন করে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ফজলুর রহমান বাদল, লিটন পারভেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান, বেরোবি ছাত্রদলের সভাপতি রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।