মরিয়মকে নির্যাতন করতেন এমপি ও তার প্রথম স্ত্রী
- আপডেট সময় ০৬:১৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 24
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা ওই মামলায় গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়ম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ করেন তার বাবা। বিষয়গুলো মরিয়ম বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকজনকে দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, বাসার একটি কক্ষে মরিয়ম ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলে আছেন।
পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ওই কক্ষে প্রবেশ করে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান তার বাবা। এ সময় বিছানার ওপর মরিয়মের লেখা একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মের বাবার অভিযোগ, আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং তাদের প্ররোচনায় তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।
এর আগে গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২১ জুলাই পল্লবী থানায় মামলা করেন মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। ওই মামলায় গাজী নজরুল ইসলামকে আসামি করা হয়। পরে ১০ আগস্ট ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান তিনি।
এদিকে, মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আগের ওই মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানকেই এবার আসামি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তে মরিয়মের মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
























