দলীয় সিদ্ধান্ত মানার বার্তা বিএনপির সভায়
- আপডেট সময় ০৩:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 25
তৃণমূল থেকে সব পর্যায়ে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের আহ্বান জানিয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেন নেতারা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ বলেন, যেকোনো নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দলীয় পরিচয় বহনের যোগ্যতা রাখবেন না। তিনি ৫ আগস্টের ঘটনাবলি থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও বলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে দলকে সংগঠিত রাখতে হবে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মতামত ও ভোটের ভিত্তিতে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি দলীয় মতপার্থক্য ভুলে স্থানীয় নির্বাচনে যোগ্যদের এগিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সংগঠনের ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদি লুনা বলেন, বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে অবমূল্যায়ন করা হবে না।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল মালিক বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে দলের প্রকৃত, নিবেদিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বাছাই করার কথা জানান তিনি।
বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, দলের তৃণমূল থেকে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব বাছাই করা হবে। নীতি ও চরিত্রের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নেতাদের নেতৃত্বে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, মেধা এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ঐক্য ও সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা জানান তিনি।
সভাটি সঞ্চালনা করেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। এতে জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, প্রচার সম্পাদক লোকমান আহমদ, সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কাশেম, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান ফয়েজ, গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নোমান আহমদ মুরাদ, ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন, বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ রেজা, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মুজিবুর রহমান, গোয়াইনঘাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ, গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, বিশ্বনাথ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, বিয়ানীবাজার পৌর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান রুমেল, কানাইঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল, জকিগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুক আহমদ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল মন্নান, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম তছলিম আহমদ নেহার এবং জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ বক্তব্য দেন।
জেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহ্বায়ক ইকবাল আহমদ, যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, মহিলা দলের সভানেত্রী তাসনিম শারমিন তামান্না, তাঁতী দলের সদস্য সচিব আলতাফ হোসেন বিলাল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান ফাহমী এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সদস্য সচিব রায়হান হোসেন খান।

























