ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

পশু জবাই নিষিদ্ধ করে বিজেপি সরকারের নতুন আইন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / 106

ছবি সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর আইনি বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের গবাদি পশু জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি এবং নিবন্ধিত পশু চিকিৎসকের পক্ষ থেকে দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া এখন থেকে গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো গবাদি পশু জবাই করা যাবে না। এই নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে যে, গরু, বলদ, বাছুর এবং মহিষের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম অভিন্নভাবে কার্যকর হবে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, জবাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটিকে প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। তবে গুরুতর অসুস্থতা বা বিকলাঙ্গতার কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম পশুর ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা রাখা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের পূর্বনির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করা যাবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নিয়ম পালনের বিষয়টি তদারকি করতে পৌর চেয়ারম্যান বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা পরিদর্শন করার ক্ষমতা রাখবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

আরও পড়ুন  মার্কিন সেনাবাহিনীতে ট্রান্সজেন্ডারদের নিয়োগ নিষিদ্ধ: নতুন নীতি ঘোষণা

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক হাজার রুপি জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ধরনের অপরাধকে আমলযোগ্য হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবনির্বাচিত সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তটি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আরোহন করে। ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং সরকারের এই নতুন প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

পশু জবাই নিষিদ্ধ করে বিজেপি সরকারের নতুন আইন

আপডেট সময় ০২:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার পশু জবাইয়ের ওপর কঠোর আইনি বিধিনিষেধ আরোপ করে নতুন একটি নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার আওতায় রাজ্যজুড়ে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের গবাদি পশু জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বুধবার (১৩ মে) রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সরকারি কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি এবং নিবন্ধিত পশু চিকিৎসকের পক্ষ থেকে দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া এখন থেকে গরু, ষাঁড় বা মহিষের মতো কোনো গবাদি পশু জবাই করা যাবে না। এই নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে যে, গরু, বলদ, বাছুর এবং মহিষের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম অভিন্নভাবে কার্যকর হবে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, জবাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পশুর বয়স অবশ্যই ১৪ বছরের বেশি হতে হবে এবং সেটিকে প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী হতে হবে। তবে গুরুতর অসুস্থতা বা বিকলাঙ্গতার কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম পশুর ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা রাখা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমতিপ্রাপ্ত পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের পূর্বনির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করা যাবে। রাস্তাঘাট বা জনসমাগমপূর্ণ কোনো উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাই করা এখন থেকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নিয়ম পালনের বিষয়টি তদারকি করতে পৌর চেয়ারম্যান বা অনুমোদিত সরকারি কর্মকর্তারা যেকোনো স্থাপনা পরিদর্শন করার ক্ষমতা রাখবেন। এই পরিদর্শন কাজে বাধা দেওয়াকেও আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে।

আরও পড়ুন  দুই আসামি জবানবন্দি প্রত্যাহার করলে সেই শিশুটিকে আদালতে যেতে হতো না: আইন উপদেষ্টা

শাস্তির বিধানে বলা হয়েছে, এই আইনের যেকোনো ধারা ভঙ্গ করলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক হাজার রুপি জরিমানা, ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এ ধরনের অপরাধকে আমলযোগ্য হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবনির্বাচিত সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্তটি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আরোহন করে। ভবানীপুর আসনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় এবং সরকারের এই নতুন প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।