ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
রামেক হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি কমাতে বসছে একক ‘অ্যাম্বুলেন্স সেন্টার’ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ নাটোরে ৪৫ টাকা চা বিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২ মধুখালীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে সুপারভাইজার নিহত, আহত ১৫ শাহজালাল বিমানবন্দরে আনসার সদস্যদের যাতায়াত সহজে বিশেষ বাস সেবা চালু ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে পরিকল্পনার মাধ্যমে: প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ: বাণিজ্যমন্ত্রী কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য উপহাইকমিশনের সতর্কবার্তা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে সহায়তার হাত বাড়াল বাংলাদেশ ছিনতাইয়ের ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যু: উদ্ধার বাইক নিয়ে প্রশ্ন, ডিবির ছায়া তদন্ত

ঢাকার নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ খান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 183

ছবি: সংগৃহীত

 

ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হতে যাচ্ছেন দেশটির হেভিওয়েট রাজনীতিক, বিহারের বর্তমান গভর্নর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক মন্ত্রী আরিফ মোহাম্মদ খান। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একজন সাবেক কেন্দ্রীয় পূর্ণ মন্ত্রী ও বর্তমান গভর্নরকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানোর ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। বিশ্ব কূটনীতিতেও এ ধরনের দৃষ্টান্ত প্রায় নগণ্য। ভারতের রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে নাম থাকা এই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে কেন বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও গবেষণার জন্ম দিয়েছে।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় আরিফ মোহাম্মদ খান ভারতের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত চরিত্র। আশির দশকে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রভাবশালী ও কনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে একাধিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব সামলানোর পর তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন এবং সবশেষ বিহারের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন  সরকারের মেয়াদ বাড়ছে এমন দাবি ভিত্তিহীন: প্রেস উইং

আরিফ মোহাম্মদ খানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো ১৯৮০-র দশকের আলোচিত ‘শাহ বানু’ মামলা। সুপ্রিম কোর্ট যখন ডিভোর্সের পর শাহ বানুর খোরপোশ পাওয়ার পক্ষে রায় দেন, তখন তরুণ মন্ত্রী আরিফ খান লোকসভায় দাঁড়িয়ে এই মানবিক রায়ের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তবে রাজীব গান্ধী সরকার মুসলিম ভোট ব্যাংক হারানো ও রক্ষণশীল আলেমদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে সুপ্রিম কোর্টের রায় উল্টে দিতে সংসদে নতুন বিল আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আধুনিক ও প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী আরিফ খান মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁর এই পদত্যাগ রাজীব গান্ধী সরকারের পতনের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরিফ মোহাম্মদ খানের মতো বড় মাপের রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠানোর পেছনে ভারতের বিশেষ কোনো ব্লুপ্রিন্ট থাকতে পারে। এর আগে ভারত কখনোই এত ‘হাই প্রোফাইল’ কাউকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে নিয়োগ দেয়নি। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব ভারতের কাছে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে?

আরিফ খান বাংলাদেশে হাইকমিশনার হয়ে এলে তাঁর পদমর্যাদা কী হবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সাবেক পূর্ণ মন্ত্রী ও গভর্নরকে যেহেতু সাধারণ রাষ্ট্রদূত হিসেবে গণ্য করা যায় না, তাই তাঁকে হয়তো ভারতের কেন্দ্রীয় পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়েই বাংলাদেশে পাঠানো হবে। প্রোটোকলের দিক থেকেও এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হতে যাচ্ছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ঝানু নেতাকে বাংলাদেশে পাঠানোর মাধ্যমে নয়া দিল্লি সম্ভবত কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা দিতে চাইছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় আরিফ খানের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকার নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ খান

আপডেট সময় ০১:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

 

ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হতে যাচ্ছেন দেশটির হেভিওয়েট রাজনীতিক, বিহারের বর্তমান গভর্নর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক মন্ত্রী আরিফ মোহাম্মদ খান। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একজন সাবেক কেন্দ্রীয় পূর্ণ মন্ত্রী ও বর্তমান গভর্নরকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানোর ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। বিশ্ব কূটনীতিতেও এ ধরনের দৃষ্টান্ত প্রায় নগণ্য। ভারতের রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে নাম থাকা এই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে কেন বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও গবেষণার জন্ম দিয়েছে।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় আরিফ মোহাম্মদ খান ভারতের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত চরিত্র। আশির দশকে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রভাবশালী ও কনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে একাধিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব সামলানোর পর তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন এবং সবশেষ বিহারের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন  আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন, বেনজীর প্রত্যর্পণে আশাবাদ সরকার

আরিফ মোহাম্মদ খানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো ১৯৮০-র দশকের আলোচিত ‘শাহ বানু’ মামলা। সুপ্রিম কোর্ট যখন ডিভোর্সের পর শাহ বানুর খোরপোশ পাওয়ার পক্ষে রায় দেন, তখন তরুণ মন্ত্রী আরিফ খান লোকসভায় দাঁড়িয়ে এই মানবিক রায়ের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তবে রাজীব গান্ধী সরকার মুসলিম ভোট ব্যাংক হারানো ও রক্ষণশীল আলেমদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে সুপ্রিম কোর্টের রায় উল্টে দিতে সংসদে নতুন বিল আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আধুনিক ও প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী আরিফ খান মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁর এই পদত্যাগ রাজীব গান্ধী সরকারের পতনের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরিফ মোহাম্মদ খানের মতো বড় মাপের রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠানোর পেছনে ভারতের বিশেষ কোনো ব্লুপ্রিন্ট থাকতে পারে। এর আগে ভারত কখনোই এত ‘হাই প্রোফাইল’ কাউকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে নিয়োগ দেয়নি। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব ভারতের কাছে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে?

আরিফ খান বাংলাদেশে হাইকমিশনার হয়ে এলে তাঁর পদমর্যাদা কী হবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সাবেক পূর্ণ মন্ত্রী ও গভর্নরকে যেহেতু সাধারণ রাষ্ট্রদূত হিসেবে গণ্য করা যায় না, তাই তাঁকে হয়তো ভারতের কেন্দ্রীয় পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়েই বাংলাদেশে পাঠানো হবে। প্রোটোকলের দিক থেকেও এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হতে যাচ্ছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ঝানু নেতাকে বাংলাদেশে পাঠানোর মাধ্যমে নয়া দিল্লি সম্ভবত কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা দিতে চাইছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় আরিফ খানের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।