ঢাকা ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

ঢাকার নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ খান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 168

ছবি: সংগৃহীত

 

ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হতে যাচ্ছেন দেশটির হেভিওয়েট রাজনীতিক, বিহারের বর্তমান গভর্নর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক মন্ত্রী আরিফ মোহাম্মদ খান। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একজন সাবেক কেন্দ্রীয় পূর্ণ মন্ত্রী ও বর্তমান গভর্নরকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানোর ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। বিশ্ব কূটনীতিতেও এ ধরনের দৃষ্টান্ত প্রায় নগণ্য। ভারতের রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে নাম থাকা এই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে কেন বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও গবেষণার জন্ম দিয়েছে।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় আরিফ মোহাম্মদ খান ভারতের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত চরিত্র। আশির দশকে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রভাবশালী ও কনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে একাধিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব সামলানোর পর তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন এবং সবশেষ বিহারের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের প্রথম ২৮ দিনে

আরিফ মোহাম্মদ খানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো ১৯৮০-র দশকের আলোচিত ‘শাহ বানু’ মামলা। সুপ্রিম কোর্ট যখন ডিভোর্সের পর শাহ বানুর খোরপোশ পাওয়ার পক্ষে রায় দেন, তখন তরুণ মন্ত্রী আরিফ খান লোকসভায় দাঁড়িয়ে এই মানবিক রায়ের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তবে রাজীব গান্ধী সরকার মুসলিম ভোট ব্যাংক হারানো ও রক্ষণশীল আলেমদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে সুপ্রিম কোর্টের রায় উল্টে দিতে সংসদে নতুন বিল আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আধুনিক ও প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী আরিফ খান মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁর এই পদত্যাগ রাজীব গান্ধী সরকারের পতনের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরিফ মোহাম্মদ খানের মতো বড় মাপের রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠানোর পেছনে ভারতের বিশেষ কোনো ব্লুপ্রিন্ট থাকতে পারে। এর আগে ভারত কখনোই এত ‘হাই প্রোফাইল’ কাউকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে নিয়োগ দেয়নি। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব ভারতের কাছে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে?

আরিফ খান বাংলাদেশে হাইকমিশনার হয়ে এলে তাঁর পদমর্যাদা কী হবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সাবেক পূর্ণ মন্ত্রী ও গভর্নরকে যেহেতু সাধারণ রাষ্ট্রদূত হিসেবে গণ্য করা যায় না, তাই তাঁকে হয়তো ভারতের কেন্দ্রীয় পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়েই বাংলাদেশে পাঠানো হবে। প্রোটোকলের দিক থেকেও এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হতে যাচ্ছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ঝানু নেতাকে বাংলাদেশে পাঠানোর মাধ্যমে নয়া দিল্লি সম্ভবত কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা দিতে চাইছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় আরিফ খানের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকার নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মদ খান

আপডেট সময় ০১:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

 

ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হতে যাচ্ছেন দেশটির হেভিওয়েট রাজনীতিক, বিহারের বর্তমান গভর্নর এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক মন্ত্রী আরিফ মোহাম্মদ খান। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে একজন সাবেক কেন্দ্রীয় পূর্ণ মন্ত্রী ও বর্তমান গভর্নরকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানোর ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। বিশ্ব কূটনীতিতেও এ ধরনের দৃষ্টান্ত প্রায় নগণ্য। ভারতের রাষ্ট্রপতি পদের দৌড়ে নাম থাকা এই প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে কেন বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে, তা নিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও গবেষণার জন্ম দিয়েছে।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় আরিফ মোহাম্মদ খান ভারতের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত চরিত্র। আশির দশকে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রিসভার অন্যতম প্রভাবশালী ও কনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে একাধিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব সামলানোর পর তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন এবং সবশেষ বিহারের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন  কোস্টা রিকা: প্রকৃতি ও শান্তির দেশ

আরিফ মোহাম্মদ খানের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হলো ১৯৮০-র দশকের আলোচিত ‘শাহ বানু’ মামলা। সুপ্রিম কোর্ট যখন ডিভোর্সের পর শাহ বানুর খোরপোশ পাওয়ার পক্ষে রায় দেন, তখন তরুণ মন্ত্রী আরিফ খান লোকসভায় দাঁড়িয়ে এই মানবিক রায়ের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তবে রাজীব গান্ধী সরকার মুসলিম ভোট ব্যাংক হারানো ও রক্ষণশীল আলেমদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে সুপ্রিম কোর্টের রায় উল্টে দিতে সংসদে নতুন বিল আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আধুনিক ও প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী আরিফ খান মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, তাঁর এই পদত্যাগ রাজীব গান্ধী সরকারের পতনের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আরিফ মোহাম্মদ খানের মতো বড় মাপের রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠানোর পেছনে ভারতের বিশেষ কোনো ব্লুপ্রিন্ট থাকতে পারে। এর আগে ভারত কখনোই এত ‘হাই প্রোফাইল’ কাউকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে নিয়োগ দেয়নি। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব ভারতের কাছে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে?

আরিফ খান বাংলাদেশে হাইকমিশনার হয়ে এলে তাঁর পদমর্যাদা কী হবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন সাবেক পূর্ণ মন্ত্রী ও গভর্নরকে যেহেতু সাধারণ রাষ্ট্রদূত হিসেবে গণ্য করা যায় না, তাই তাঁকে হয়তো ভারতের কেন্দ্রীয় পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়েই বাংলাদেশে পাঠানো হবে। প্রোটোকলের দিক থেকেও এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হতে যাচ্ছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ঝানু নেতাকে বাংলাদেশে পাঠানোর মাধ্যমে নয়া দিল্লি সম্ভবত কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা দিতে চাইছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় আরিফ খানের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।