ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
পদত্যাগের পর হাসিমুখে পূজামণ্ডপে ইশরাক সৌদি আরবে নিহত নুরুল হকের পরিবার পেলেন ক্ষতিপূরণ বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে নেতানিয়াহুর, খুঁজছেন নতুন মিত্র সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার ববি হাজ্জাজের নিজ সন্তানের জন্য হলেও ঢাকা পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, তথ্যের ঘাটতি ছিল

ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নেই: এনসিপি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫
  • / 600

ছবি সংগৃহীত

 

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি করেছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় দেশের সকল অংশীজনের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নেই। কমিশন যাদেরকে আলোচনায় আহ্বান করেছে, তারা দেশের জনগণের সার্বিক আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছে দলটি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক আলোচনার বিরতিতে এসব কথা বলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম।

আরও পড়ুন  সংস্কার আলোচনায় গতি: আজ তৃতীয়বারের মতো ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি

তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশন কোন পদ্ধতিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় ডাকছে, তা স্পষ্ট নয়। যাদের ডাকা হয়েছে, তারা শতভাগ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না। যদি তারা সত্যিই জন-আকাঙ্ক্ষা বহন করত, তাহলে ৫৪ দলের সম্মিলিত আন্দোলন এত সহজে ভেস্তে যেত না।”

চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেতা বলেন, “তখন মূলত তিনটি স্টেকহোল্ডার ছিল রাজনৈতিক দলসমূহ, জনতা এবং শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এই আলোচনায় কেবল রাজনৈতিক দলগুলোকেই ডাকা হয়েছে, জনতা এবং পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব নেই। অথচ তারা অভ্যুত্থানে সমানভাবে অংশ নিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “যারা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে, তাদের অনেকেই বড় কোনো রাজনৈতিক দলের সুপারিশেই নির্বাচিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। তাদের বক্তব্যগুলোও প্রায়শই কোনো একটি বড় দলের পক্ষেই যায়। ভিন্নমত এলেই সেখানে হট্টগোলের চেষ্টা হয়।”

আলোচনার সময় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে এনসিপির অবস্থান তুলে ধরে আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হোক। তবে এ বিষয়ে এখনো আলোচনা চলমান রয়েছে, তাই সংখ্যা ও পদ্ধতির বিষয়ে আমরা উন্মুক্ত আছি।”

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। “আমরা এই অনুচ্ছেদ পুরোপুরি বাতিলের পক্ষে ছিলাম,” বলেন আরিফুল। “তবে ঐকমত্যের স্বার্থে আমরা মত দিয়েছি যে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদ সদস্যরা দলের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন।”

আলোচনার শেষে এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক সংস্কারে বিশ্বাস করি। তবে সেই সংস্কার যেন অন্তঃসারশূন্য না হয় এবং সকল অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়—এটাই আমাদের প্রধান দাবি।”

নিউজটি শেয়ার করুন

ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সব পক্ষের প্রতিনিধিত্ব নেই: এনসিপি

আপডেট সময় ০৬:০৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ জুন ২০২৫

 

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দাবি করেছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় দেশের সকল অংশীজনের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নেই। কমিশন যাদেরকে আলোচনায় আহ্বান করেছে, তারা দেশের জনগণের সার্বিক আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছে দলটি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক আলোচনার বিরতিতে এসব কথা বলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম।

আরও পড়ুন  বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিসহ ৩০ দলের অংশগ্রহণে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শুরু

তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশন কোন পদ্ধতিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় ডাকছে, তা স্পষ্ট নয়। যাদের ডাকা হয়েছে, তারা শতভাগ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না। যদি তারা সত্যিই জন-আকাঙ্ক্ষা বহন করত, তাহলে ৫৪ দলের সম্মিলিত আন্দোলন এত সহজে ভেস্তে যেত না।”

চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এই নেতা বলেন, “তখন মূলত তিনটি স্টেকহোল্ডার ছিল রাজনৈতিক দলসমূহ, জনতা এবং শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এই আলোচনায় কেবল রাজনৈতিক দলগুলোকেই ডাকা হয়েছে, জনতা এবং পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব নেই। অথচ তারা অভ্যুত্থানে সমানভাবে অংশ নিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “যারা এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে, তাদের অনেকেই বড় কোনো রাজনৈতিক দলের সুপারিশেই নির্বাচিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। তাদের বক্তব্যগুলোও প্রায়শই কোনো একটি বড় দলের পক্ষেই যায়। ভিন্নমত এলেই সেখানে হট্টগোলের চেষ্টা হয়।”

আলোচনার সময় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে এনসিপির অবস্থান তুলে ধরে আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হোক। তবে এ বিষয়ে এখনো আলোচনা চলমান রয়েছে, তাই সংখ্যা ও পদ্ধতির বিষয়ে আমরা উন্মুক্ত আছি।”

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। “আমরা এই অনুচ্ছেদ পুরোপুরি বাতিলের পক্ষে ছিলাম,” বলেন আরিফুল। “তবে ঐকমত্যের স্বার্থে আমরা মত দিয়েছি যে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদ সদস্যরা দলের বিপক্ষে অবস্থান নিতে পারবেন।”

আলোচনার শেষে এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক সংস্কারে বিশ্বাস করি। তবে সেই সংস্কার যেন অন্তঃসারশূন্য না হয় এবং সকল অংশীজনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়—এটাই আমাদের প্রধান দাবি।”