ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
টকশো ও সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল রুশ তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ‘বিশেষ ছাড়’ পেল বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ৮ আরোহীর সবার মৃত্যু শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক বার্তা অস্ট্রিয়া—সংগীত, ইতিহাস ও পাহাড়ের দেশ চাঁদ জয়ের রেকর্ড গড়া নভোচারীদের, রাজকীয় সংবর্ধনা সিনেমার বাইরে বাস্তব নাটক—রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার কুষ্টিয়ায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ‘ক্লান্ত’ মির্জা ফখরুল কি তবে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? গুঞ্জন ও আগামীর সমীকরণ খাবার শেষে পানি পান: উপকার নাকি ক্ষতি—চিকিৎসকরা কী বলছেন

গণতন্ত্রের পথে ঐকমত্য প্রয়োজন, মতপার্থক্য নয়: আলী রীয়াজ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫
  • / 237

ছবি সংগৃহীত

 

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ বারবার ফ্যাসিবাদের উত্থান চায় না। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হবে। তাই তারা জুলাই অভ্যুত্থানে জীবন দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে : তারেক রহমান

আলী রীয়াজ বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই আলোচনার উদ্যোগ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক, তবে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি দৃঢ় থাকা জরুরি।”

তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টে দেশের মানুষ শুধু ক্ষোভ নয়, পরিবর্তনের আশাও প্রকাশ করেছে। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে বৈষম্য থাকবে না। ঐকমত্য কমিশন সেই কাঠামো তৈরির কাজ করছে, আর এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য।”

কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ইফতেখারুজ্জামান এবং প্রধান উপদেষ্টার সহকারী মনির হায়দার।

বাসদের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন দলটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় ফোরামের সদস্য নিখিল দাস, জনার্দন দত্ত নান্টু, শম্পা বসু, মনীষা চক্রবর্ত্তী, জুলফিকার আলী, আহসান হাবিব বুলবুল, খালেকুজ্জামান লিপন, আবু নাঈম খান বিপ্লব ও গাজীপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব রাহাত আহম্মেদ।

বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “মতপ্রকাশ ও গ্রহণযোগ্যতার এই পরিবেশ আমরা অতীতে পাইনি। কিন্তু এখন রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব।”

তিনি বলেন, “মানুষ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে। সংস্কারের কিছু প্রস্তাবে আমরা ইতিমধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছেছি, আর যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য আছে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে একটি বাস্তবসম্মত অঙ্গীকারে পৌঁছানোর। অতীতে অনেক ঐকমত্য হলেও রাজনৈতিক দলগুলো তা মানেনি। সেসব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাস রয়েছে। তাই মানসিকতা না বদলালে বর্তমান ঐকমত্যও ব্যর্থ হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গণতন্ত্রের পথে ঐকমত্য প্রয়োজন, মতপার্থক্য নয়: আলী রীয়াজ

আপডেট সময় ০১:০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

 

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ বারবার ফ্যাসিবাদের উত্থান চায় না। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হবে। তাই তারা জুলাই অভ্যুত্থানে জীবন দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন  নেপাল নির্বাচন ২০২৬: ভোট ৫ মার্চ, লড়াইয়ে ওলি-বালেনসহ শীর্ষ নেতারা

আলী রীয়াজ বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই আলোচনার উদ্যোগ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক, তবে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি দৃঢ় থাকা জরুরি।”

তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টে দেশের মানুষ শুধু ক্ষোভ নয়, পরিবর্তনের আশাও প্রকাশ করেছে। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে বৈষম্য থাকবে না। ঐকমত্য কমিশন সেই কাঠামো তৈরির কাজ করছে, আর এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা অপরিহার্য।”

কমিশনের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ইফতেখারুজ্জামান এবং প্রধান উপদেষ্টার সহকারী মনির হায়দার।

বাসদের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন দলটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় ফোরামের সদস্য নিখিল দাস, জনার্দন দত্ত নান্টু, শম্পা বসু, মনীষা চক্রবর্ত্তী, জুলফিকার আলী, আহসান হাবিব বুলবুল, খালেকুজ্জামান লিপন, আবু নাঈম খান বিপ্লব ও গাজীপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব রাহাত আহম্মেদ।

বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, “মতপ্রকাশ ও গ্রহণযোগ্যতার এই পরিবেশ আমরা অতীতে পাইনি। কিন্তু এখন রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব।”

তিনি বলেন, “মানুষ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে। সংস্কারের কিছু প্রস্তাবে আমরা ইতিমধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছেছি, আর যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য আছে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে একটি বাস্তবসম্মত অঙ্গীকারে পৌঁছানোর। অতীতে অনেক ঐকমত্য হলেও রাজনৈতিক দলগুলো তা মানেনি। সেসব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাস রয়েছে। তাই মানসিকতা না বদলালে বর্তমান ঐকমত্যও ব্যর্থ হতে পারে।