ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেলওয়ের লোকসান রোধে কার্যকর পদক্ষেপ, দুর্নীতি ও অপচয়ই প্রধান বাধা: রেলপথ উপদেষ্টা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫
  • / 533

ছবি সংগৃহীত

 

রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, “রেলওয়ে এখন একটি লোকসানী প্রতিষ্ঠান। এক টাকা আয় করতে গিয়ে খরচ হয় আড়াই টাকা।” তার মতে, রেলওয়ের দীর্ঘদিনের লোকসানের মূল কারণ হলো দুর্নীতি ও অপচয়। এই চক্র থেকে রেলকে উদ্ধার করতে সরকার এখন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বুধবার সকালে ঢাকা-ভৈরববাজার-ঢাকা রুটে নতুন একটি কমিউটার ট্রেন উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ভিআইপি লাউঞ্জের সামনে। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে নতুন ট্রেনটি ভৈরববাজার থেকে এসে ঢাকা স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে থামে। উপদেষ্টা নিজ হাতে যাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

আরও পড়ুন  ২০০৬ বিশ্বকাপ দুর্নীতি: জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার রাজধানীর বাইরে শহরগুলোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। “শহরের বাইরের মানুষের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করছি, সেই অনুযায়ী রেলের উন্নয়নে কাজ করছি,” বলেন তিনি।

রেলওয়ের অর্থনৈতিক চাপে বিনা টিকিটে যাত্রা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “রেলের সেবার মূল্য তুলনামূলকভাবে কম। এরপরেও অনেক যাত্রী টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করছেন। এভাবে চলতে থাকলে রেল সেবা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে,” জানান উপদেষ্টা। যাত্রীদের তিনি অনুরোধ করেন, যারা ভাড়া না দিয়ে রেল ভ্রমণ করছে, তাদের রেল কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে।

নরসিংদীতে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি স্টপেজে ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় নষ্ট হয়। বেশি স্টপেজ দিলে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর গতি ও সময়মতো চলাচল ব্যাহত হয়। তাই স্টপেজ কমিয়ে লোকাল ট্রেনে বেশি স্টপ রাখা হবে।”

রেলের কোচ ও ইঞ্জিন সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সংকট কাটাতে চীনের সঙ্গে আলোচনা করছি। আজই ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চীন যাচ্ছে, যেখানে কোচ ও লোকোমোটিভ সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা হবে।”

উপদেষ্টা আরও জানান, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এক টাকা আয়ের পেছনে রেলের আসল খরচ নিরূপণের জন্য বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত করতে।

অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

রেলওয়ের লোকসান রোধে কার্যকর পদক্ষেপ, দুর্নীতি ও অপচয়ই প্রধান বাধা: রেলপথ উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০৩:১৯:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫

 

রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, “রেলওয়ে এখন একটি লোকসানী প্রতিষ্ঠান। এক টাকা আয় করতে গিয়ে খরচ হয় আড়াই টাকা।” তার মতে, রেলওয়ের দীর্ঘদিনের লোকসানের মূল কারণ হলো দুর্নীতি ও অপচয়। এই চক্র থেকে রেলকে উদ্ধার করতে সরকার এখন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

বুধবার সকালে ঢাকা-ভৈরববাজার-ঢাকা রুটে নতুন একটি কমিউটার ট্রেন উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ভিআইপি লাউঞ্জের সামনে। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে নতুন ট্রেনটি ভৈরববাজার থেকে এসে ঢাকা স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে থামে। উপদেষ্টা নিজ হাতে যাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

আরও পড়ুন  সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় পত্র (আইডি কার্ড) তৈরীর অভিযোগে বগুড়ায় আটক ৮

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার রাজধানীর বাইরে শহরগুলোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। “শহরের বাইরের মানুষের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করছি, সেই অনুযায়ী রেলের উন্নয়নে কাজ করছি,” বলেন তিনি।

রেলওয়ের অর্থনৈতিক চাপে বিনা টিকিটে যাত্রা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “রেলের সেবার মূল্য তুলনামূলকভাবে কম। এরপরেও অনেক যাত্রী টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করছেন। এভাবে চলতে থাকলে রেল সেবা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে,” জানান উপদেষ্টা। যাত্রীদের তিনি অনুরোধ করেন, যারা ভাড়া না দিয়ে রেল ভ্রমণ করছে, তাদের রেল কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে।

নরসিংদীতে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি স্টপেজে ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় নষ্ট হয়। বেশি স্টপেজ দিলে আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর গতি ও সময়মতো চলাচল ব্যাহত হয়। তাই স্টপেজ কমিয়ে লোকাল ট্রেনে বেশি স্টপ রাখা হবে।”

রেলের কোচ ও ইঞ্জিন সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সংকট কাটাতে চীনের সঙ্গে আলোচনা করছি। আজই ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চীন যাচ্ছে, যেখানে কোচ ও লোকোমোটিভ সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা হবে।”

উপদেষ্টা আরও জানান, রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ও মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এক টাকা আয়ের পেছনে রেলের আসল খরচ নিরূপণের জন্য বিস্তারিত রিপোর্ট প্রস্তুত করতে।

অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।