ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :

মানসিক চাপজনিত মাথাব্যথা কমাতে কার্যকর কিছু উপায়

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:২৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 20

ছবি: সংগৃহীত

সকালবেলা কাজের চাপে হঠাৎ মাথা ধরে আসা—এটা মোটেও কাকতালীয় কোনো বিষয় নয়। মানসিক উদ্বেগ বেশি থাকলে মাথাব্যথায় ভোগার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। টেনশন-জনিত মাথাব্যথা কিংবা মাইগ্রেনের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে মানসিক চাপ। এমনকি অন্য কারণে হওয়া মাথাব্যথাকেও এটি তীব্র করে তুলতে পারে। তবে সুখবর হলো, চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে মাথাব্যথা এড়ানো সম্ভব।

মন প্রশান্ত রাখে এমন কিছু কাজ মানসিক চাপ ও তার সঙ্গে জড়িত মাথাব্যথা কমাতে সহায়ক। প্রিয় গান শোনা, নাচ করা, খেলাধুলা, বই পড়া বা পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানো—এসব থেকে বেছে নিতে পারেন যেকোনো একটি। দিনে অন্তত ১০ মিনিট হলেও নিজের জন্য আলাদা রাখুন।

প্রতিদিনের করণীয় কাজের ফর্দে অপ্রয়োজনীয় কিছু যোগ করার বদলে বরং কমিয়ে আনুন। ভেবে দেখুন—কোনটা এখনই জরুরি, কোনটা পরে করলেও চলবে, আর কোনটা আদৌ করার দরকারই নেই।

আরও পড়ুন  হঠাৎ প্যানিক অ্যাটাক হলে তাৎক্ষণিক করণীয়

মাথাব্যথা প্রতিরোধে এবং অনেক সময় নিরাময়েও ব্যায়ামের কার্যকারিতা প্রমাণিত। এটি দৈনন্দিন মানসিক চাপ দূর করতেও সহায়তা করে। তবে হুট করে কঠোর ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে শরীর গরম করে নেওয়া উচিত, নয়তো উল্টো মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

ফলমূল, শাকসবজি ও শস্যজাতীয় খাবার শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এসব খাবার রাখা জরুরি।

উদ্বেগের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, আবার পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চাপ সামলানোও কঠিন হয়ে পড়ে। ঘুমের ঘাটতি শরীরে স্ট্রেস হরমোন—অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল—নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়।

পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মন খুলে কথা বললে সমস্যা মোকাবিলা সহজ হয়। প্রয়োজনে একজন মনোবিদের পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে।

কর্মক্ষেত্র ও বাড়ি—দুই জায়গাতেই প্রতিদিনের কাজের তালিকা নিয়মিত আপডেট রাখুন। যতটা সম্ভব দায়িত্ব ভাগ করে দিন এবং বড় কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভেঙে নিন। একসঙ্গে সব চাপ একা বহন না করে ধাপে ধাপে এগোনোই ভালো।

দিনের কাজ গুছিয়ে রাখুন এবং সম্ভাব্য সমস্যাগুলো আগেভাগে অনুমান করার চেষ্টা করুন। পরিকল্পনায় কিছুটা নমনীয়তা রাখুন, যাতে হঠাৎ মাথাব্যথা শুরু হলেও সহজে পথ বদলাতে পারেন।

নিজের হাতে নেই এমন বিষয় নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা না করাই ভালো। মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনুন এবং নিজেকে উৎসাহ দিন। প্রয়োজনে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

অতিরিক্ত চাপ অনুভব করলে কিছুক্ষণের জন্য থেমে যান। হালকা স্ট্রেচিং বা কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি নতুন উদ্যম জোগাতে পারে। চাইলে মনে মনে কোনো শান্ত পরিবেশে কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যেতে পারেন।

হাসি মানসিক চাপ কমানোর একটি চমৎকার উপায়। এটি শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসরণ ঘটায়, যা মনকে ভালো রাখে এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। মজার সিনেমা বা হাস্যরসাত্মক বই এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

একঘেয়ে রুটিন থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু চেষ্টা করুন। ছোট্ট একটা ছুটি বা সাপ্তাহিক ভ্রমণ মনের জড়তা কাটিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মানসিক চাপজনিত মাথাব্যথা কমাতে কার্যকর কিছু উপায়

আপডেট সময় ১১:২৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সকালবেলা কাজের চাপে হঠাৎ মাথা ধরে আসা—এটা মোটেও কাকতালীয় কোনো বিষয় নয়। মানসিক উদ্বেগ বেশি থাকলে মাথাব্যথায় ভোগার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। টেনশন-জনিত মাথাব্যথা কিংবা মাইগ্রেনের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে মানসিক চাপ। এমনকি অন্য কারণে হওয়া মাথাব্যথাকেও এটি তীব্র করে তুলতে পারে। তবে সুখবর হলো, চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে মাথাব্যথা এড়ানো সম্ভব।

মন প্রশান্ত রাখে এমন কিছু কাজ মানসিক চাপ ও তার সঙ্গে জড়িত মাথাব্যথা কমাতে সহায়ক। প্রিয় গান শোনা, নাচ করা, খেলাধুলা, বই পড়া বা পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানো—এসব থেকে বেছে নিতে পারেন যেকোনো একটি। দিনে অন্তত ১০ মিনিট হলেও নিজের জন্য আলাদা রাখুন।

প্রতিদিনের করণীয় কাজের ফর্দে অপ্রয়োজনীয় কিছু যোগ করার বদলে বরং কমিয়ে আনুন। ভেবে দেখুন—কোনটা এখনই জরুরি, কোনটা পরে করলেও চলবে, আর কোনটা আদৌ করার দরকারই নেই।

আরও পড়ুন  হঠাৎ প্যানিক অ্যাটাক হলে তাৎক্ষণিক করণীয়

মাথাব্যথা প্রতিরোধে এবং অনেক সময় নিরাময়েও ব্যায়ামের কার্যকারিতা প্রমাণিত। এটি দৈনন্দিন মানসিক চাপ দূর করতেও সহায়তা করে। তবে হুট করে কঠোর ব্যায়াম শুরু না করে ধীরে ধীরে শরীর গরম করে নেওয়া উচিত, নয়তো উল্টো মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

ফলমূল, শাকসবজি ও শস্যজাতীয় খাবার শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এসব খাবার রাখা জরুরি।

উদ্বেগের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, আবার পর্যাপ্ত ঘুম না হলে চাপ সামলানোও কঠিন হয়ে পড়ে। ঘুমের ঘাটতি শরীরে স্ট্রেস হরমোন—অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল—নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়।

পরিবার বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মন খুলে কথা বললে সমস্যা মোকাবিলা সহজ হয়। প্রয়োজনে একজন মনোবিদের পরামর্শও নেওয়া যেতে পারে।

কর্মক্ষেত্র ও বাড়ি—দুই জায়গাতেই প্রতিদিনের কাজের তালিকা নিয়মিত আপডেট রাখুন। যতটা সম্ভব দায়িত্ব ভাগ করে দিন এবং বড় কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভেঙে নিন। একসঙ্গে সব চাপ একা বহন না করে ধাপে ধাপে এগোনোই ভালো।

দিনের কাজ গুছিয়ে রাখুন এবং সম্ভাব্য সমস্যাগুলো আগেভাগে অনুমান করার চেষ্টা করুন। পরিকল্পনায় কিছুটা নমনীয়তা রাখুন, যাতে হঠাৎ মাথাব্যথা শুরু হলেও সহজে পথ বদলাতে পারেন।

নিজের হাতে নেই এমন বিষয় নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা না করাই ভালো। মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনুন এবং নিজেকে উৎসাহ দিন। প্রয়োজনে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।

অতিরিক্ত চাপ অনুভব করলে কিছুক্ষণের জন্য থেমে যান। হালকা স্ট্রেচিং বা কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি নতুন উদ্যম জোগাতে পারে। চাইলে মনে মনে কোনো শান্ত পরিবেশে কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যেতে পারেন।

হাসি মানসিক চাপ কমানোর একটি চমৎকার উপায়। এটি শরীরে এন্ডোরফিন নিঃসরণ ঘটায়, যা মনকে ভালো রাখে এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে। মজার সিনেমা বা হাস্যরসাত্মক বই এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

একঘেয়ে রুটিন থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু চেষ্টা করুন। ছোট্ট একটা ছুটি বা সাপ্তাহিক ভ্রমণ মনের জড়তা কাটিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিতে পারে।